বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দুই মাধ্যম যাত্রাপালা ও সার্কাসকে টিকিয়ে রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ ও নানা জটিলতার পর এবার এ খাতে পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘যাত্রাশিল্পের মানোন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি জানান, এখন থেকে যাত্রাদল ও সার্কাস পরিচালনার প্রাথমিক অনুমতি সরাসরি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে। এর ফলে জেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, যাত্রাশিল্পকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যাত্রার নামে কোনো ধরনের অশ্লীলতা বা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও জানান, সুস্থ ও রুচিশীল বিনোদন নিশ্চিত করতে যাত্রা ও সার্কাসের জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে এ শিল্পমাধ্যমকে আরও সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা হবে।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, যাত্রাশিল্প শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ শিল্পকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি যাত্রাশিল্পকে সময়োপযোগী করে তুলতে বাচনভঙ্গি, মঞ্চ উপস্থাপনা, প্যান্ডেল ব্যবস্থাপনা এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারে আধুনিকতার ছোঁয়া আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন যাত্রাদলের মালিক, শিল্পী ও কলাকুশলীরা তাদের পেশাগত নানা সমস্যা তুলে ধরেন। তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আর্থিক সুরক্ষা এবং ঝুঁকিভাতা চালুর দাবি জানান।
আলোচকরা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে সামাজিক, ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর নতুন যাত্রাপালা নির্মাণে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ বলেন, যাত্রাশিল্পীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণে শিল্পকলা একাডেমি দেশব্যাপী কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জুবায়ের বাবু, পালাকার রাখাল বিশ্বাস এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষকরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



