কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের গড়ে তোলা বিতর্কিত ‘পুরুষ ক্লাব’ ছিল ক্ষমতা, প্রভাব ও যৌনতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এক অন্ধকার জগত। সেখানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী, প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান পুরুষদের জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন। আর নারীরা সেখানে মানুষ নয়, বরং ভোগ্য বস্তু হিসেবে বিবেচিত হতেন।

মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত হাজারো ই–মেইল বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইনের সামাজিক পরিসরে নারীর মর্যাদা কখনোই সমান ছিল না। পুরুষদের ক্ষেত্রে তিনি রাষ্ট্রনায়ক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ বা শীর্ষ ব্যবসায়ী পরিচয় তুলে ধরতেন। কিন্তু নারীদের পরিচয় সীমাবদ্ধ থাকত যৌনতা ও বিনোদনের মধ্যে।
২০১৩ সালে একটি ডিনারের অতিথি তালিকায় একমাত্র নারী হিসেবে অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথওয়ের নাম যুক্ত করে এপস্টেইন ‘সত্যিই’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এতে স্পষ্ট হয়, ক্ষমতাবান পুরুষদের টেবিলে নারীর উপস্থিতি ছিল অস্বাভাবিক ও অবাঞ্ছিত। ওই ক্লাবে নারীদের কাজ ছিল শুধুমাত্র খাবার পরিবেশন, অতিথিদের বিনোদন দেয়া এবং যৌনসঙ্গী হওয়া।
এপস্টেইনের ই–মেইলগুলোতে নারীদের শরীর, বয়স ও চেহারা নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়। কোথাও দাঁত ঠিক করার নির্দেশ, কোথাও ওজন কমানো আবার কোথাও প্লাস্টিক সার্জারির পরামর্শ। এমনকি এক ই–মেইলে একজন তরুণীকে ২৩ বছরের আগেই নাকের আকৃতি বদলানোর পরামর্শ দেন তিনি।
এপস্টেইনের নারী সহকারীদের দায়িত্ব ছিল পুরুষ অতিথিদের সব ধরনের চাহিদা পূরণ করা। খাবার থেকে শুরু করে যৌনসঙ্গীর ব্যবস্থাও তাদের নিশ্চিত করতে হতো। অন্য প্রভাবশালী পুরুষদের সহকারীদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তারা, যাতে ‘বসদের’ পছন্দ–অপছন্দ জানা থাকে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই নথিগুলো শুধু এপস্টেইনের বিকৃত মানসিকতার প্রমাণ নয়। বরং এগুলো দেখায়, কীভাবে আধুনিক পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী বিশ্বব্যবস্থাতেও পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার বলয়ে নারীরা অবহেলা, তাচ্ছিল্য ও নিপীড়নের শিকার হন। এপস্টেইনের ‘পুরুষ ক্লাব’ সেই নিষ্ঠুর বাস্তবতারই স্পষ্ট নগ্ন চিত্র।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


