দেশে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে, যা জুন মাসের বিল থেকেই কার্যকর হবে।

বুধবার (২ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের ভারিত গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
বিইআরসির হিসাবে, এই সমন্বয়ের ফলে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার বা হুইলিং চার্জও বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যমান ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে তা বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিশন বলছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে পাইকারি মূল্য বৃদ্ধির পরও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
এর আগে গত মে মাসের শুরুতে পিডিবি, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ, ডেসকো, ডিপিডিসি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ওজোপাডিকো এবং নেসকো বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেয়। এসব প্রস্তাবের ওপর ২০ ও ২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। অন্যদিকে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি ৩ পয়সা থেকে ২৯ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন জানায়।
নতুন মূল্যহার ঘোষণার পর ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর মালিবাগের বাসিন্দা কবীর হোসেন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি বিদ্যুতের দামও বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয় সে অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে সাধারণ পরিবারের ব্যয়ভার সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ব্যয় বৃদ্ধি হলে তা বোঝা যায়, তবে অনিয়ম বা দুর্নীতিজনিত ব্যয়ের দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো উচিত নয়।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু গ্রাহকের মাসিক বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্প উৎপাদন ব্যয়, কৃষিতে সেচ কার্যক্রম, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



