অত্যন্ত বরকতপূর্ণ ও শক্তিশালী একটি কালিমা হলো ‘আল্লাহু আকবার’। এই সংক্ষিপ্ত শব্দবন্ধের মধ্যেই নিহিত রয়েছে ঈমানের গভীর শক্তি। যখন একজন মুমিন আন্তরিকতার সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণ করে, তখন তার অন্তরে ঈমানি দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায় এবং সে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের অধিকারী হওয়ার সুযোগ পায়।

পবিত্র কোরআন-এ বহু স্থানে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাকবির বা তাঁর মহিমা ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন বলা হয়েছে—
“সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর রাজত্বে কোনো শরিক নেই এবং তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। অতএব, তুমি তাঁর মহিমা ঘোষণা করো পূর্ণভাবে।” (সুরা বনি ইসরাঈল: ১১১)
‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হলো—এটি শয়তানকে দুর্বল ও অসহায় করে দেয়। প্রতিদিন যখন মুয়াজ্জিন আজানের মাধ্যমে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে ইবাদতের আহ্বান জানান, তখন শয়তান তা সহ্য করতে পারে না।
সহিহ বুখারি-তে বর্ণিত একটি হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে জানা যায়, মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—
যখন আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান এমনভাবে পালিয়ে যায় যাতে সে আজানের শব্দ শুনতে না পায়। আজান শেষ হলে সে ফিরে আসে, আবার ইকামতের সময়ও পালিয়ে যায়। এরপর সুযোগ পেলে মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে নামাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি শয়তানের জন্য অত্যন্ত লাঞ্ছনাকর ও অসহনীয়। সে শুধু দূরে সরে যায় না, বরং অপমানজনক অবস্থায় পলায়ন করে। আল্লাহর মহিমার ঘোষণা তার শক্তিকে ভেঙে দেয়।
ইকামতের সময়ও একই ঘটনা ঘটে—আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা শুনে শয়তান দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন এই ধ্বনি থেমে যায়, তখন সে আবার মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। তার লক্ষ্যই হলো মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করা এবং ভুল পথে পরিচালিত করা।
আজানের ধ্বনি শুধু শয়তানকে দূরে সরায় না; এটি পরিবেশকে পবিত্র করে, মানুষের হৃদয়কে জাগ্রত করে এবং গাফেল অন্তরকে আলোর দিকে ফিরিয়ে আনে। যে সমাজে নিয়মিত আজান ধ্বনিত হয়, সেখানে শয়তানের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
সবশেষে বলা যায়, ‘আল্লাহু আকবার’—এই দুই শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক অসীম শক্তি। এটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—সর্বশক্তিমান, সর্বমহান ও সর্বোচ্চ সত্তা একমাত্র আল্লাহ। ফলে মানুষের অন্তরে জন্ম নেয় তাকওয়া, সাহস ও প্রশান্তি; দূর হয়ে যায় ভয় ও হতাশা, আর হৃদয় হয়ে ওঠে আল্লাহমুখী।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


