খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই পেট ভারী লাগা, ঢেকুর ওঠা, বুক জ্বালা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা হয়। এর প্রধান কারণ হলো, খাবার ঠিকভাবে হজম না হওয়া এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হওয়া। এই অস্বস্তি কমাতে ছোট্ট একটি ঘরোয়া উপায় হতে পারে এলাচ। এলাচে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান হজমে সহায়ক রস নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে।

ফলে খাবার সহজে ভেঙে যায় এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে। নিয়মিত খাবারের পর এলাচ চিবালে অনেকের হজমের সমস্যা কমতে দেখা যায়।
এলাচের আরেকটি বড় গুণ হলো এটি পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির পেছনে সাধারণত অন্ত্রে জমে থাকা গ্যাসই দায়ী।
এলাচ পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশিকে শিথিল করতে সহায়তা করে, যার ফলে জমে থাকা গ্যাস সহজে বের হয়ে যায় এবং পেট হালকা লাগে। যারা প্রায়ই পেট ভারী লাগা বা ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য খাবারের পর একটি-দুটি এলাচ চিবানো সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় হতে পারে।
বর্তমানে অম্বল বা বুক জ্বালার সমস্যাও খুব সাধারণ। বিশেষ করে বেশি ঝাল, তেলযুক্ত বা ভারী খাবার খেলে এই সমস্যা বাড়ে।
এলাচ পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে এবং খাবারকে সহজে নিচের দিকে নামতে সাহায্য করে। এর ফলে বুক জ্বালা, টক ঢেকুর বা গলার অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। তবে যাদের দীর্ঘদিনের বা গুরুতর অম্বলের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এলাচ কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক অভ্যাস হিসেবে ধরা উচিত।
খাবারের পর মুখে দুর্গন্ধ হওয়াও অনেকের জন্য বিব্রতকর বিষয়। মুখে খাবারের কণা থেকে গেলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যা দুর্গন্ধের কারণ হয়।
এলাচে থাকা প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক উপাদান মুখের ভেতরের ক্ষতিকর জীবাণু কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এলাচের মনোরম সুগন্ধ দীর্ঘ সময় মুখে সতেজ ভাব বজায় রাখে। নিয়মিত এলাচ চিবানো মুখের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতেও সহায়ক হতে পারে।
শুধু শারীরিক উপকারেই সীমাবদ্ধ নয়, এলাচের সুগন্ধ মানসিক প্রশান্তিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এর ঘ্রাণ স্নায়ুকে কিছুটা শান্ত করে এবং খাবারের পর যে ঝিমুনি বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তা কমাতে সাহায্য করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি মন ভালো করতেও সহায়ক হয়, ফলে খাবারের শেষে এলাচ চিবানো এক ধরনের আরামদায়ক অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।
এলাচে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদানও রয়েছে, যা শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘদিন হজমের সমস্যা থাকলে অন্ত্রে প্রদাহ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, সেখানে এলাচের এই গুণ কিছুটা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, উপকারী হলেও এলাচ অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। সাধারণভাবে প্রতিদিন খাবারের পর এক থেকে দুইটি এলাচ চিবালেই যথেষ্ট। এর বেশি খেলে কারো কারো ক্ষেত্রে পেটে জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে। যারা নিয়মিত ওষুধ খান বা দীর্ঘদিনের হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের নিয়মিত এলাচ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সব দিক বিবেচনায়, খাবারের পর এলাচ চিবানো ছোট কিন্তু উপকারী একটি অভ্যাস হতে পারে। এটি হজমে সাহায্য করে, গ্যাস ও অম্বল কমাতে সহায়ক হয়, মুখের দুর্গন্ধ দূর করে এবং মানসিক স্বস্তি দেয়। তবে এটিকে কোনো জাদুকরী সমাধান ভাবা ঠিক নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিলিয়েই এলাচের প্রকৃত উপকার পাওয়া সম্ভব।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


