ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ খারগে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, এই হামলায় দ্বীপটিতে সেনাবাহিনীর একটি প্রতিরক্ষা স্থাপনা, একটি নৌঘাঁটি, হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার এবং একটি হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সেনাবাহিনী সদর দপ্তর থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি খারগ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে ইরান কঠোর প্রতিশোধ নেবে। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই অঞ্চলের যেকোনো তেল স্থাপনা বা পরিকাঠামো যদি কোনোভাবে আমেরিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে, তবে সেগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে। তবে তেল অবকাঠামো অক্ষত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান পাল্টা সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, যদি তাদের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আরও হামলা হয়, তাহলে তারা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করা তেল কোম্পানি ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।
খারগ দ্বীপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ। আয়তনে ছোট হলেও এটি ইরানের জ্বালানি খাতের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এই দ্বীপে রয়েছে—বিশাল তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, একাধিক তেল লোডিং টার্মিনাল, বড় বড় তেলবাহী ট্যাংকারের জেটি ও পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন তেলক্ষেত্র থেকে আসা তেলের মজুত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপকেই বলা হয় ইরানের ‘রাজমুকুট রত্ন’। দ্বীপটি ইরানের ৯০ শতাংশ তেল পরিবহনের রপ্তানি টার্মিনাল হিসেবে কাজ করে এবং হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে এর অবস্থান। এটিকে তেহরানের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়।
ইরানের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’
ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে খারগ দ্বীপ কার্যত দেশটির জ্বালানি অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
কেননা ইরানের তেল রপ্তানির বড় অংশ এখান থেকেই হয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস এটি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এখান থেকে তেল পাঠানোর ব্যবস্থা বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি খারগ দ্বীপের কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ইরানের তেল রপ্তানি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব
খারগ দ্বীপ শুধু ইরানের জন্যই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ—এখান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়, পারস্য উপসাগরের তেল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বড় কেন্দ্র এটি এবং এই দ্বীপের কার্যক্রম ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে।
আয়তনে ছোট হলেও খারগ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু। দেশটির তেল রপ্তানির বড় অংশ এখান থেকে হওয়ায় এটি কেবল একটি দ্বীপ নয়—বরং ইরানের অর্থনীতির প্রধান ধমনী হিসেবে বিবেচিত।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই কারণেই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা খারগ দ্বীপকে প্রায়ই ইরানের ‘লাইফলাইন’ বলে উল্লেখ করেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা ও রয়টার্স
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


