ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। রোজা ভাঙার সময় ইসলামের নবী (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করার পরামর্শ দিয়েছেন। কুরআনেও বিভিন্ন স্থানে খেজুরের উল্লেখ আছে। কিন্তু কেন খেজুর রোজাদারদের জন্য এত উপযোগী? চলুন জেনে নিই এর পুষ্টিগুণ।

১. শক্তির উৎস
রমজান মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় কিছু না খেলে শরীর শক্তির অভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা ও জটিল কার্বোহাইড্রেট, যা রোজাদারদের দ্রুত শক্তি দেয়। পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশিরের মতে, “খেজুর রোজা ভাঙার সময় শরীরকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ করে।”
২. ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ
খেজুর ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনে পরিপূর্ণ। এটি শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দ্রুত সরবরাহ করে, যা দীর্ঘ রোজার পর শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে।
৩. পানিশূন্যতা রোধ
খেজুরে থাকা পটাসিয়াম কোষগুলোকে হাইড্রেট রাখে। রোজাদাররা খেজুর খাওয়ার সঙ্গে পানি পান করলে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোলাইট গ্রহণের প্রয়োজন হয় না।
৪. অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ন্ত্রণ
রোজার সময় অনেকের ওজন কমে যায়। কিন্তু ইফতারে অতিরিক্ত খেলে তা আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। খেজুর খেলে হজম শুরু হওয়ায় শরীর বুঝতে পারে যে কিছু খাওয়া হয়েছে, ফলে পরবর্তীতে অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়।
৫. হজম সহজ করে
দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপা সাধারণ সমস্যা। খেজুরে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রের কার্যক্রম সহজ করে এবং বর্জ্য পদার্থ তাড়াতাড়ি বের করে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা সুপারিশ করে প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করতে।
উপসংহার
খেজুর শুধু ঐতিহ্যবাহী নয়, বরং এটি রোজাদারদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিকর। এটি শক্তি দেয়, পানিশূন্যতা কমায়, হজম সহজ করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি কমায়। তাই রমজানে ইফতারে খেজুর রাখা অত্যন্ত উপকারী।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


