ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুদিনের। মাঠের লড়াই পেরিয়ে এবার সম্পদের দৌড়েও তাঁরা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিলিয়নিয়ারদের কাতারে নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মেসির মোট নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকজন সক্রিয় ক্রীড়াবিদের একজন হিসেবে বিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। এই বিশেষ তালিকায় রয়েছেন বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস, গলফ কিংবদন্তি টাইগার উডস এবং পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
তবে মেসির বিলিয়নিয়ার হয়ে ওঠার পথটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। ইউরোপীয় ফুটবলে দীর্ঘ সাফল্যময় অধ্যায়ের পর তিনি সৌদি আরবের একটি ক্লাবের বিপুল অর্থের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন। সে সময় অনেকেই সিদ্ধান্তটিকে আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিস্ময়কর বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, এটি ছিল সুদূরপ্রসারী ও কৌশলগত একটি পদক্ষেপ।
ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করতে শুরু করেন মেসি। বিশেষ করে সম্প্রচারস্বত্ব, ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি এবং ক্লাবে মালিকানার অংশীদারিত্ব তাঁর সম্পদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্যারিয়ারজুড়ে তাঁর মোট উপার্জনের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মেসির আগেই বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলার সুবাদে পাওয়া বিপুল অঙ্কের করমুক্ত পারিশ্রমিক তাঁর সম্পদের প্রধান ভিত্তি। বর্তমানে তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রোনালদোর সম্পদের বড় অংশ বর্তমান বেতনভিত্তিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল হলেও মেসির সম্পদের উৎস তুলনামূলকভাবে বেশি বৈচিত্র্যময়। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে গড়ে তোলা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড, স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি নির্মাণ করেছেন।
ফুটবল ইতিহাসের এই দুই কিংবদন্তি এখন শুধু মাঠের নায়ক নন, আধুনিক ক্রীড়া অর্থনীতিরও অন্যতম সফল মুখ। খেলোয়াড়ি জীবন চলাকালেই বিলিয়নিয়ার হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করে তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে বর্তমান যুগে ক্রীড়াবিদদের প্রভাব মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ জগতেও বিস্তৃত।
বর্তমানে সম্পদের হিসেবে রোনালদো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বিলিয়নিয়ার ক্লাবে মেসির অন্তর্ভুক্তি তাঁর বিচক্ষণ পরিকল্পনা, দূরদর্শী সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশলের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



