বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে বিএনপি।’

তিনি আরো বলেন, দল-মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, বিএনপি সে ব্যবস্থাই গ্রহণ করবে।
তারেক রহমান বলেন, বহু রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছি। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। বিএনপি জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলির সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু একটি সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি গণতন্ত্র মজবুত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, গত প্রায় ১৬ বছর ধরে এ দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। শুধু ভোটের অধিকারই নয়, মানুষের কথা বলার অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই অধিকারগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য বহু মানুষ জীবন দিয়েছে, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে, অনেকে নির্যাতিত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই আন্দোলনে যেসব মানুষ শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবার আজ এই জনসভায় উপস্থিত।
তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। এই ত্যাগকে সম্মান জানাতে হলে ভোটের অধিকারকে শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নারীদের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের খেটে খাওয়া পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, যাতে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। অতীতে বিএনপি সরকারের সময় কৃষকদের জন্য সুদ মওকুফ ও কৃষি জমির খাজনা মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত ও অল্পশিক্ষিত তরুণ-তরুণী বেকার অবস্থায় রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ভোকেশনাল, আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করা হবে।
প্রবাসী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেককে পৈতৃক জমি বিক্রি করতে হয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রবাসী কর্মীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা জমিজমা বিক্রি না করেই বিদেশে যেতে পারেন।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। গ্রামে ও ওয়ার্ডে বসেই বিশেষ করে মা, বোন ও শিশুরা যেন প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুত সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, সমাজের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ— ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব ধর্মীয় ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি ঢাকা-১৪ আসনের একটি বড় সমস্যা হিসেবে তুরাগ নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি তুলে ধরে বলেন, এই সেতু নির্মিত হলে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপকার হবে।
তুলি নির্বাচিত হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দ্রুত তুরাগ নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হবে।
তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিগত ১৬ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে কিছু গোষ্ঠীর পকেট ভরানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রকৃত অর্থে জনগণের কল্যাণে উন্নয়ন করা হবে।
একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন আবার ভোট ডাকাতি করতে না পারে। চোখ কান খোলা রাখুন, সজাগ থাকুন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নানা নির্যাতন সহ্য করেও দেশ ছেড়ে যাননি। কারণ, তাঁর প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। আমাদেরও সবার প্রথম ও শেষ ঠিকানা এই দেশ।
জনসভায় উপস্থিত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে ১৩ তারিখ থেকে জুলাই শহীদদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ার কাজে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকা-১৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি গত ১৬ বছর ধরে দেশে গুম, খুন ও নির্যাতনের রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে যেসব নির্যাতন হয়েছে, তুলির পরিবারও তার শিকার হয়েছে। এ কারণে তিনি মানুষের কষ্ট, বেদনা ও আপনজন হারানোর যন্ত্রণা গভীরভাবে বোঝেন।
তারেক রহমান সানজিদা ইসলাম তুলির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ তুলে দিয়ে বলেন, আপনারা ভোট দিয়ে তুলির পাশে থাকবেন। আপনাদের আমি কথা দিলাম, তুলি নির্বাচিত হলে ঢাকা-১৪ আসনের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে এই এলাকার সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকবো। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এ পথসভায় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, আমরা বিএনপি পরিবার-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ঢাকা মহানগর (পশ্চিম) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও মীরপুর থানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


