বর্তমান সময়ে মুখে বারবার ব্রণ ওঠা অনেকেরই সাধারণ সমস্যা। সাধারণত আমরা মনে করি, তেল-মসলাযুক্ত খাবার, মানসিক চাপ, হরমোনের ওঠাপড়া বা ত্বকের ভুল যত্নের কারণে ব্রণ হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় ভিটামিনের ঘাটতিও ব্রণের মূল কারণ হতে পারে।

ভিটামিনের অভাব হলে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে ব্রণ, লালচে দাগ এবং ত্বকের প্রদাহ দেখা দিতে পারে।
কোন ভিটামিনের ঘাটতি ব্রণের কারণ হতে পারে?
১. ভিটামিন এ:
ত্বকের কোষ তৈরি ও মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এর অভাব হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, মৃত কোষ জমে ছিদ্র বন্ধ হয় এবং ব্রণ তৈরি হয়। এছাড়া ভিটামিন এ ত্বকের তেল উৎপাদনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ভিটামিন এ-এর উৎস: গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক, সবুজ শাক-সবজি।
২. ভিটামিন বি কমপ্লেক্স:
বিশেষ করে বি২, বি৩, বি৬ ও বি১২। এর অভাব হলে ত্বকে প্রদাহ বেড়ে যায় এবং ব্রণের ঝুঁকি বাড়ে। ভিটামিন বি বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখে ও কোষের সুস্থতা বজায় রাখে।
ভিটামিন বি-এর উৎস: গোটা শস্য, ডাল, ডিম, দুধ, সবুজ শাক-সবজি।
৩. ভিটামিন সি:
শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, ফ্রি-র্যাডিক্যাল থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাবে ব্রণ ধীরে সারে এবং দাগ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
ভিটামিন সি-এর উৎস: আমলা, কমলা, লেবু, পেয়ারা, স্ট্রবেরি।
৪. ভিটামিন ডি:
ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ঘাটতি থাকলে ব্রণ আরও জটিল হতে পারে।
ভিটামিন ডি-এর উৎস: নিয়মিত সূর্যালোক, দুধ, ডিম, দই।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
মুখে ব্রণ কেবল বাহ্যিক সমস্যা নয়; অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরের পুষ্টির ঘাটতির প্রতিফলন। তাই কেবল ক্রিম বা ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ভিটামিন গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি।
যদি দীর্ঘদিন ব্রণ কমে না, তাহলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। এটি সঠিক কারণ নির্ণয় করে কার্যকর চিকিৎসা শুরু করার জন্য প্রয়োজন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


