জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা পূর্ণভাবে নিশ্চিত থাকবে। তিনি বলেন, কোনো নারীকে কুদৃষ্টিতে তাকানোর দুঃসাহস কেউ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আন্দোলন ও সংগ্রামের পথে যারা স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন কিংবা বাবাকে হারিয়েছেন—তিনি তাদের কষ্টের প্রতিনিধিত্ব করেই জনতার সামনে দাঁড়িয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি চেষ্টা করেছেন নিপীড়িত পরিবারগুলোর পাশে থাকার। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, তাদের অপরাধ কী ছিল? একমাত্র অপরাধ ছিল—অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এই কারণেই তাদের ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক পরিবার আজও তাদের সন্তানদের কোনো খোঁজ পায়নি। সন্তানহারা বাবা-মায়েদের আহাজারি তিনি নিজ চোখে দেখেছেন এবং সেই কান্না সহ্য করা তার জন্যও কঠিন হয়ে উঠেছিল।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, মানুষের পকেট থেকে জোর করে টাকা আদায় করা হয়েছে, চাঁদাবাজি চালানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সেই ফ্যাসিবাদী শাসন কি আবার বাংলায় ফিরে আসুক—এটাই কি জনগণ চায়? যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছে, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। পাশাপাশি বলেন, এই জনপদে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আয়োজনে ১১ দলীয় জোটের এই জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন। এছাড়া ঝিনাইদহ-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী আবু তালিব এবং ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমানও বক্তব্য রাখেন।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জামায়াত আমিরের জনসভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। বিকেলের মধ্যেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। পুরো ঝিনাইদহ শহরে জনসমাগম বাড়তে থাকে এবং বাস, ট্রাক ও থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে সড়কপথে ঝিনাইদহে পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরাসরি জনসভাস্থলে গিয়ে মঞ্চে ওঠেন এবং সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। মাত্র ২৩ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি আগামীর বাংলাদেশের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরেন।
বক্তব্য শেষে তিনি জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় ঝিনাইদহ-১ আসনের এএসএম মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-২ আসনের আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের মাওলানা আবু তালিবের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


