ভারতীয় সংগীত অঙ্গনে এমন কিছু কণ্ঠ রয়েছে, যেগুলো সময় পেরিয়েও মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে জ্বলজ্বল করে—তেমনই এক উজ্জ্বল নাম আশা ভোঁসলে। তার প্রয়াণে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার জীবনের মতোই তার সংগীতভাণ্ডার ছিল বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ—যেখানে সাফল্যের পাশাপাশি রয়েছে সংগ্রাম এবং চমকপ্রদ আর্থিক উত্থানের কাহিনি। বয়সের শেষ প্রান্তেও তার জনপ্রিয়তা, প্রভাব এবং সম্পদের পরিমাণ ছিল বিস্ময়কর।

শুধু সংগীতেই নয়, ব্যবসা ও সম্পত্তির দিক থেকেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সফল। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ কোটি রুপি। এই বিপুল সম্পদের কারণে তিনি ভারতের ধনী গায়িকাদের অন্যতম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।
তার আয়ের একটি বড় অংশ এসেছে সংগীতের পাশাপাশি ব্যবসা থেকে। বিশেষ করে তার প্রতিষ্ঠিত রেস্তোরাঁ চেইন দীর্ঘদিন ধরে আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা এসব রেস্তোরাঁয় উচ্চমানের ভারতীয় খাবার পরিবেশন করা হয়।
এছাড়া মুম্বাই ও পুনেতে তার একাধিক মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। মুম্বাইয়ের পেডার রোডে অবস্থিত ‘প্রভু কুঞ্জ’ অ্যাপার্টমেন্ট তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের মধ্যে একটি। বর্তমানে তার জীবিত সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে আনন্দ ভোঁসলে তার শেষ সময় পর্যন্ত পাশে ছিলেন এবং মৃত্যুর পর পারিবারিক দায়িত্বও তিনি সামলাচ্ছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, উত্তরাধিকারসূত্রে তার এই সম্পদের মালিক হবেন তিনিই।
সংগীতজীবনের শুরুতে তিনি তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে গান গাইলেও সময়ের সঙ্গে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। একসময় নির্দিষ্ট ঘরানায় সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে রোমান্টিক, গজল এবং শাস্ত্রীয় সংগীতসহ বিভিন্ন ধারার গানে দক্ষতা দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
হিন্দি, মারাঠি, বাংলা, গুজরাটি সহ প্রায় ১৮টি ভাষায় ১ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশি গান গেয়ে তিনি সংগীত ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার মৃত্যু একটি যুগের অবসান ঘটালেও তার কীর্তি, সাফল্য ও সম্পদের গল্প চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


