ইসরায়েল গাজা যুদ্ধ এবং ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করে বড় ধরনের উন্নয়ন এনেছে। জেরুজালেম থেকে এএফপি জানায়, আগের মতো পুরো শহরজুড়ে সাইরেন বাজানোর পরিবর্তে এখন নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ও ভিড় অনেকটাই কমে গেছে।

আগে তেল আবিবে হামলার ক্ষেত্রে পুরো শহরেই সাইরেন বাজত, কিন্তু এখন এআই ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য আঘাতস্থল বিশ্লেষণ করে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অঞ্চলে সতর্কতা পাঠাচ্ছে। এতে মানুষকে কমবার আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে এবং দৈনন্দিন জীবন তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।
এই ব্যবস্থার মূল শক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ, উৎক্ষেপণের সময়, আবহাওয়ার পরিস্থিতি, উৎক্ষেপণের কোণ এবং রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে আঘাতের সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, যা এআই সহজেই করতে পারে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে দেশটিতে ৬০ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও ড্রোন হামলার হুমকি এসেছে। এই বিপুল ডেটা বিশ্লেষণ করেই সতর্কতা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা হয়েছে।
২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় যেখানে দেশটিকে মাত্র ২৫টি সতর্কতা অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল, এখন তা বেড়ে প্রায় ১,৭০০-এ পৌঁছেছে। বড় শহরগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষকে আশ্রয় নিতে না হয়।
বর্তমানে এই সতর্কতা ব্যবস্থা শুধু সাইরেনের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং ওয়েবসাইট, গণমাধ্যম, রেডিও এবং বিশেষ করে স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত বার্তা পাঠানো হয়। প্রায় ৪০ লাখ ফোনে ব্যবহৃত এই অ্যাপের মাধ্যমে মানুষ তাৎক্ষণিক সতর্কতা, আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বার্তা পায়।
এছাড়া সেল ব্রডকাস্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার সব মোবাইল ফোনে একসঙ্গে সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব হয়েছে, যা প্রতিক্রিয়ার সময়কে আরও কার্যকর করেছে।
ভুক্তভোগীদের মতে, এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কিছুটা মানসিক চাপ কমালেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সার্বিকভাবে, এআই-নির্ভর এই আধুনিক সতর্কতা ব্যবস্থা মানুষের জীবন রক্ষায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


