ইসলাম দাম্পত্য জীবনকে কেবল সামাজিক চুক্তি হিসেবে নয়; বরং ইমান, নৈতিকতা ও আখিরাতমুখী একটি পবিত্র বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করে। একজন পুরুষের জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে স্ত্রী নির্বাচনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রেখে গেছেন। বিবাহের একটি মহান উদ্দেশ্য হলো সন্তান গ্রহণ। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে স্ত্রী নির্বাচন বাঞ্ছনীয়। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন—
تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمْ الْأُمَمَ
‘অধিক প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী নারী বিবাহ কর। কারণ আমি তোমাদের নিয়ে কেয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের সামনে (সংখ্যাধিক্যের ফলে) গর্ব করব।’ (আবু দাউদ ২০৫০, নাসাঈ ৩২২৭, মিশকাতুল মাসাবিহ ৩০৯১)
নবীজি (সা.) বিবাহের ব্যাপারে আরও অনেক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا، وَلِحَسَبِهَا، وَلِجَمَالِهَا، وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ
‘নারীকে চারটি কারণে বিয়ে করা হয়—তার সম্পদের জন্য, বংশ-মর্যাদার জন্য, সৌন্দর্যের জন্য এবং তার দ্বীনের জন্য। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকে প্রাধান্য দাও—তাহলেই তুমি সফলকাম হবে।’ বুখারি ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬, নাসায়ী ৩২৩০, আবু দাউদ ২০৪৭, ইবনু মাজাহ ১৮৫৮, মুসনাদে আহমাদ ৯৫২১, মিশকাতুল মাসাবিহ ৩০৮২)
এই হাদিসে নবীজি (সা.) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন— দুনিয়াবি আকর্ষণ নয়, বরং দ্বীন ও তাকওয়াই হওয়া উচিত স্ত্রী নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য।
কুরআনের দিকনির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা দাম্পত্য জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন—
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً
‘তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে—তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য থেকে স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া।’ (সুরা আর-রূম: আয়াত ২১)
দ্বীনদার স্ত্রীই এই সাকিনা (প্রশান্তি), মাওয়াদ্দা (ভালোবাসা) ও রাহমাহ (দয়া) বাস্তব রূপ দিতে সক্ষম।
কেন দ্বীনদার স্ত্রীই সর্বোত্তম?
-সে আল্লাহকে ভয় করে, স্বামীর অধিকার ও দায়িত্ব বোঝে
-বিপদে ধৈর্যশীল, সুখে কৃতজ্ঞ থাকে
-সন্তানদের ইমান ও চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে
-দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জীবনে সহযোগী হয়
স্ত্রী নির্বাচন কেবল একটি পারিবারিক সিদ্ধান্ত নয়— এটি একজন মানুষের ঈমানি যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মোড়। নবীজি (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী, সম্পদ অনিশ্চিত; কিন্তু দ্বীন ও তাকওয়াভিত্তিক জীবনই প্রকৃত সফলতা।
তাই যে উদ্দেশ্য সামনে রেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রী নির্বাচন করতে বলেছেন— তাহলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের মুক্তি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনদার জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


