বাংলাদেশে রমজানে ইফতারে আর কিছু থাকুক আর না থাকুক এক গ্লাস ঠান্ডা লেবুর শরবত ও ছোলা মুড়ির সঙ্গে বেগুনি থাকা চাই। বলতে গেলে বাংলাদেশের ইফতারের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে এই দুটি পদ মিশে আছে। সেই সুযোগ অতি মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজান এলে সবার আগে লেবু ও বেগুনের দাম বাড়িয়ে দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এখন লেবুর হালি সেঞ্চুরির উপরে, আর বেগুনে আগুনের ছোঁয়া।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও রায়েরবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথ বলে জানা যায়, এখন বাজারে বড় আকারের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, মাঝারি আকারের এক ১০০ টাকা এবং ছোট আকারের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। বাজারে এখন প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। সেই হিসেবে এক ডজন ডিমের দামে মিলছে এক হালি লেবু।
রমজানে ইফতারের আরেকটি অন্যতম অনুষঙ্গ হলো বেগুনি। বাজারে এখন বেগুনের গায়ে আগুনের ছোঁয়া। এখন খুচরা বাজারে গোল বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহ আগে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে ছিল। এই হিসেবে সপ্তাহ ব্যবধানে বেগুনের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।
রমজানে বেড়েছে শসা ও কাঁচামরিচের দাম। এখন বাজারে এক কেজি দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।
বাজারে এখন ছোট আকারের ডাব বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মাঝারি আকারের ডাব ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বড় আকারের ডাব ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়।
বাড়তি অন্যান্য সবজির দাম
এ সপ্তাহে বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি সিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ১৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া মুদি বাজারে চালসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাড়তি মাছ ও মুরগির দাম
গত সপ্তাহের মত সপ্তাহে বাজারে বাড়তি রয়েছে মাছ ও মুরগির দাম। বাজারে এখন মাঝারি আকারের চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, দেশি শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি সাইজের পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
এ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। সোনালি জাতের মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়।
কী বলছে ক্রেতা বিক্রেতারা
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের লেবু বিক্রেতা ফয়সাল হোসেন বলেন, “লেবুর দাম বেড়েছে গত এক সপ্তাহ হলো। লেবুর উৎপাদন কম ও বাজারে চাহিদা তুলনায় সরবরাহ কম থাকার কারণে লেবুর দাম বেড়েছে। এছাড়া আরো একটি অন্যতম কারণ- অনেক মানুষ আছে এমন যারা চাহিদার তুলনায় বেশি সংগ্রহ করছেন যার ফলে দাম বাড়ছে। এখন গড় হিসেবে প্রতিহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে। তবে রমজান কয়েক দিন যাওয়ার পর লেবুর দাম কিছুটা কমতে পারে।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
রাজধানীর নিউমার্কেটের বনলতা কাঁচাবাজারের কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী কাকলি আক্তার বলেন, “গত সপ্তাহে বেগুন কিনেছি ৬০ টাকা করে, একই বেগুন এখন ১২০ টাকা চাচ্ছে। অর্থাৎ দ্বিগুণ দাম বেড়েছে। তাহলে আমাদের মত সাধারণ মানুষ কী করে ইফতার করতে পারব? একসময় আমাদেরকে পরামর্শ দেওয়া হতো বেগুনির পরিবর্তে কুমড়ার চপ খেতে এখন কী পরামর্শ দিবে বলতে পারছি না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে রমজান মাসে দাম কমানোর প্রতিযোগিতা চলে কিন্তু আমাদের দেশে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলে। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা কোনদিন ভালো হবে না। সাধারণ মানুষের কত চিন্তা করে সরকারের উচিত রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


