লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সৌদি প্রবাসী ছেলে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী জেসমিন বেগম বৃদ্ধ শ্বশুর আবদুল আলী হাওলাদার (৯২) ও মমতাজেন্নেছা বেগমকে (৮১) পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া বৃদ্ধ দম্পতিকে গত তিন বছর ঝুপড়ির মতো রান্নাঘরে রেখেছেন ওই গৃহবধূ। আহত শ্বশুর ও শাশুড়িকে স্বজনরা উদ্ধার করে স্থানীয় ওষুধের দোকানে নিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার উপজেলার চরআবাবিল ইউপির উদমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই গৃহবধূর বিচার চেয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।
জানা গেছে, উপজেলার উদমারা গ্রামের বৃদ্ধ আবদুল আলী হাওলাদারের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় ছেলে গ্রামে ও ছোট ছেলে সৌদি আরব থাকেন। আনোয়ার সৌদি যাওয়ার পর থেকেই তার স্ত্রী বৃদ্ধ শ্বশুর ও শাশুড়িকে ভরণপোষণ দেয় না। তিনি গ্রামেই বসতঘরে তিন সন্তান নিয়ে বাড়িতে বসবাস করছেন।
গত তিন বছর ধরে তিনি তার শ্বশুর-শাশুড়িকে কারণে-অকারণে নির্যাতন করে আসছেন- এমন অভিযোগ বৃদ্ধ শ্বশুর আবদুল আলীর।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিন জানা যায়, জমি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই শ্বশুর ও শাশুড়িকে এলোপাতাড়ি মারধর করে পিতার বাড়ি চলে যায়। বসবাস করেন জরাজীর্ণ রান্নাঘরে। ছেলেমেয়েরা সেবাযত্ন করছেন না।
আহত আবদুল আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আঁই হোলা-মাইয়াগোরে বড় কইরা বিপদে হরছি। হোলার বউ লাঠি দিয়া মারছে। কয়দিন পরপর মারে। নাতিগো কাছে আইতো দেয় না। কার কাছে বিচার চাইমু। খাওন-পরন দেয় না।
পুত্রবধূ জেসমিন বেগম শ্বশুর ও শাশুড়িকে মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, শুধুমাত্র তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। বিষয়টি পারিবারিক। তাছাড়া শ্বশুরের কাছ থেকে ভাসুর ও তিন ননদ সব জমি ভাগ করে নিয়ে গেছে। আমার স্বামীকে কোনো জমি দেয়নি। সন্তানদের নিয়ে কষ্টে আছি।
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


