১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের তথ্য চেয়ে হঠাৎ ব্যাংকগুলোতে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার অফিস সময় শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ থেকে ইমেইল করে রোববার দুপুর ১২টার আগেই তথ্য পাঠাতে বলা হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দেন, তাদের দল সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। তারেক রহমানের এই ঘোষণার সঙ্গে ব্যাংকগুলোর কাছে এই তথ্য চাওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, তা জানা যায়নি।
জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর কাছে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়, এ ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সাধারণভাবে এমন তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নির্বাহী পরিচালক, ডেপুটি গভর্নর এবং ক্ষেত্র বিশেষ গভর্নর পর্যন্ত নোট উপস্থাপন করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে তা পরিপালন করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ তথ্য চাওয়া হয়।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারপারসন। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে কয়েক দফা ফোন করে এবং প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের তথ্য চাওয়া হয়। তিনি এর বেশি কিছু বলতে চাননি।
ব্যাংকগুলোতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যের জরুরি নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ও পল্লি ঋণের মোট আসল, সুদ বা মুনাফা এবং বকেয়া স্থিতির তথ্য ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে ইমেইল পাঠিয়ে পরবর্তী কর্মদিবস রোববার সকাল ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে এ তথ্য দিতে বলা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, প্রথমে অন্য একটি পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের তথ্য চাওয়া হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে এই তথ্য চাওয়া হয়। পর্ষদ সদস্যকে এ বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করা হবে কিনা, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীর পর নওগাঁয় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় তারেক রহমান কৃষকদের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন প্রথমবার সরকার গঠন করলেন, তখন উনি পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সব মওকুফ করে দিয়েছিলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। আজকে সকালেই আমি রাজশাহীতে ঘোষণা দিয়েছি, বিএনপি সরকার গঠন করলে, এখন এই মুহূর্তে যেসব কৃষক ভাইয়ের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, আমরা সেই ঋণ সুদসহ পুরোটা মওকুফ করব ইনশাআল্লাহ।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তারেক রহমান আরও বলেন, “সারা বাংলাদেশের সব কৃষক ভাইয়ের কাছে আমরা একটি কার্ড দেব। এই কার্ডটির নাম ‘কৃষক কার্ড’। এটি আমরা সব কৃষক ভাইয়ের হাতে পৌঁছে দেব। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষক ভাইয়ের একটি সিজনের একটি ফসলের যাবতীয় বীজ, সার ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


