ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডের পাশে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। পাশে ছিল না কোনো স্বজন কিংবা পরিচিত মানুষ। সেই অসহায় অবস্থাতেই শুক্রবার ভোরে ফুটপাতে জন্ম নেয় একটি কন্যাশিশু।

দীর্ঘদিন ধরে ওই নারী কালকিনির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। রাস্তার পাশেই কাটত তার দিন-রাত। তার পরিচয় কিংবা পরিবারের কোনো খোঁজ স্থানীয়দের জানা নেই। শুক্রবার ভোরে হঠাৎ তার প্রসব ব্যথা শুরু হলে আশপাশের কয়েকজন নারী মানবিকতা দেখিয়ে এগিয়ে আসেন। তাদের সহযোগিতাতেই নিরাপদে জন্ম হয় নবজাতকটির।
পরে খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও মা ও শিশুর পাশে দাঁড়ান। তবে শিশুটির বাবার পরিচয় নিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী কীভাবে গর্ভবতী হলেন এবং কার লালসার শিকার হয়েছেন—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সমাজের সবচেয়ে অসহায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা বড় ধরনের সামাজিক ব্যর্থতা। তারা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মা ও নবজাতককে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সনদ বৈদ্য জানান, মা ও নবজাতক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই নারী কিছুটা অসুস্থ এবং তার দুই পায়ে সেলুলাইটিস রয়েছে। হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত মা ও শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ওই নারীর আত্মীয়-স্বজনের সন্ধানও করা হচ্ছে। তিনি সুস্থ হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সমাজের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেছেন তারা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



