গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর তারেক রহমানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। সে সময় তাঁর সঙ্গে চিত্রনায়ক মান্নার একটি পুরোনো ছবি নতুন করে ভাইরাল হয়। ছবিতে দেখা যায়, দুজনই হাসিমুখে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে কথা বলছেন, হাত বাড়িয়ে কুশল বিনিময় করছেন।

১৭ ফেব্রুয়ারি মান্নার মৃত্যুবার্ষিকী। একই দিনে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে ছবিটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। গতকাল সারা দিনই ছবিটি চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন পেজে শেয়ার হয়েছে। ফলে পুরোনো সেই মুহূর্ত ঘিরে কৌতূহল বেড়েছে—সেদিন কী কথা হয়েছিল দুজনের?
এ বিষয়ে প্রথম আলোকে মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না বলেন, ‘ছবিটি অনেক আগের। আমাদের কাছেও রয়েছে। হঠাৎ করেই দেখছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। সেদিন মান্নার সঙ্গে তারেক রহমানের হঠাৎ দেখা হয়। মান্না বলেছিলেন, তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন তারেক রহমান। মূলত অভিনয়, দেশ—এসব নিয়েই কথা হয়েছিল। তারকাদের রাজনীতিতে এসে দেশের সেবা করার প্রসঙ্গও উঠেছিল।’
শেলীর ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি ২০০২ সালের পরের কোনো সময়ের। তখন বিএনপি ক্ষমতায়। পয়লা বৈশাখের একটি অনুষ্ঠানে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ আয়োজনে গিয়েছিলেন মান্না। সেখানেই তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। ‘মান্না তো সেভাবে রাজনীতি করতেন না, অভিনয় নিয়েই থাকতেন,’ বলেন শেলী। ‘সেদিন তিনি অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন। তারেক রহমান আন্তরিকভাবে কথা বলেছিলেন। সিনেমা আর দেশের রাজনীতি নিয়েই আলাপ হয়। আমাদের পরিবার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আমরা খুব আগ্রহী ছিলাম না। আমিও সরকারি চাকরি করতাম। তবে মান্না তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক কথাই বলেছিলেন।’
১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন মান্না। তাঁর আসল নাম সৈয়দ মোহাম্মদ আসলাম তালুকদার। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে তিনি ঢাকা কলেজে স্নাতকে ভর্তি হন। ১৯৮৪ সালে তিনি এফডিসির নতুন মুখের সন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে আসেন। নায়করাজ রাজ্জাক মান্নাকে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। ‘তওবা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে সেরা নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন মান্না। সেই সঙ্গে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন তিনি।
অভিনয়জীবনে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মান্না। তাঁর চলচ্চিত্রে বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের কথা উঠে এসেছে বারবার। বঞ্চিত মানুষের কথা সিনেমার পর্দায় নিপুণভাবে তুলে ধরে তিনি সবার মন জয় করেন। তাই তিনি ছিলেন আপামর জনসাধারণের প্রিয় নায়ক। মান্না অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দাঙ্গা’, ‘লুটতরাজ’, ‘তেজী’, ‘আম্মাজান’, ‘আব্বাজান’, ‘বীর সৈনিক’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’, ‘খলনায়ক’, ‘রংবাজ বাদশা’, ‘সুলতান’, ‘ভাইয়া’, ‘টপ সম্রাট’, ‘চাঁদাবাজ’, ‘ঢাকাইয়া মাস্তান’, ‘মাস্তানের উপর মাস্তান’, ‘বিগবস’, ‘মান্না ভাই’, ‘টপ টেরর’, ‘জনতার বাদশা’, ‘রাজপথের রাজা’, ‘এতিম রাজা’, ‘টোকাই রংবাজ’, ‘ভিলেন’, ‘নায়ক’, ‘সন্ত্রাসী মুন্না’, ‘জুম্মান কসাই’, ‘আমি জেল থেকে বলছি’, ‘কাবুলিওয়ালা’ ইত্যাদি।
মাত্র ৪৩ বছর বয়সে, ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রয়াত হন। তবে পর্দার সেই আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি, সংলাপ বলার ভঙ্গি আর দর্শকনির্ভর জনপ্রিয়তা আজও তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
পুরোনো একটি ছবি কখনো কেবল একটি মুহূর্ত ধরে রাখে না; ধরে রাখে সময় ও প্রেক্ষাপটও। সেই ছবিতে রাজনীতির এক পরিচিত মুখের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন জনপ্রিয় এক নায়ক—যিনি মূলত অভিনয়েই থাকতে চেয়েছিলেন। সময়ের স্রোতে কিছু মুহূর্ত ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়; ছবিটি যেন তেমনই এক নীরব সাক্ষী।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


