চীনা গবেষকরা মানুষের ১৩টি অঙ্গের বার্ধক্য বা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে পরিমাপ করার জন্য একটি নতুন গাণিতিক মডেল তৈরি করেছেন। শিয়ান জিয়াওতং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়াং তিয়েলিনের নেতৃত্বে একদল গবেষক এই উদ্ভাবনী মডেলটি তৈরি করেছেন যা মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের বার্ধক্যের স্তর নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে সক্ষম।

এর আগে বার্ধক্য নিয়ে গবেষণায় মূলত শরীরের সামগ্রিক পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হতো কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে কোনো একটি নির্দিষ্ট অঙ্গ নিয়ে কাজ করা হতো। ফলে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গের বুড়িয়ে যাওয়ার পেছনে যে আলাদা আলাদা জিনগত বৈশিষ্ট্য বা আণবিক পথ কাজ করে তা বোঝা বিজ্ঞানীদের জন্য বেশ কঠিন ছিল।
গবেষণার অংশ হিসেবে চীনা বিজ্ঞানীদের এই দলটি একটি জিনোম-ওয়াইড অ্যাসোসিয়েশন বিশ্লেষণ পরিচালনা করেন, যেখানে মানুষের অঙ্গের বার্ধক্যের সঙ্গে যুক্ত ১১৯টি জিনগত অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, এর মধ্যে মাত্র ২৭টি জিন একাধিক অঙ্গের বার্ধক্যের সঙ্গে জড়িত।
এই ফল থেকে এটিই প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষের শরীরের একেকটি অঙ্গের বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া জিনগতভাবে একে অপরের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। গবেষণায় ৫৫৪টি এমন জিন চিহ্নিত করা হয়েছে যা সরাসরি অঙ্গের বার্ধক্যের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং প্রতিটি অঙ্গের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই নতুন মডেলটি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে অঙ্গের বার্ধক্য পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারে। ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি দাবি করেছে যে, এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় এবং অ্যান্টি-এজিং বা বার্ধক্যরোধী কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হবে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শরীরের কোনো অঙ্গ অকালপক্ক বা অকেজো হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের আগেভাগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী রোগের সঙ্গে অঙ্গের বার্ধক্যের সম্পর্ক এবং ধূমপানের ফলে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কতটা পড়ছে, তাও এই মডেলের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। মূলত রোগ প্রতিরোধ এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই গবেষণা এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


