ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর ঘড়ির কাঁটা তখনও পুরোপুরি স্থির হওয়ার আগেই ইতিহাস গড়ে ফেলেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। মাত্র ১১ সেকেন্ডে বল জালে জড়িয়ে জাতীয় নারী ফুটবল দলের জার্সিতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন সুইডেনপ্রবাসী এই ফরোয়ার্ড।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে নিজের ঐতিহাসিক গোলটি তিনি উৎসর্গ করেন দেশের মানুষকে।
মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনিকা বলেন, “গোলটি দেশবাসীকে উৎসর্গ করছি। আমি খুবই খুশি। জাতীয় দলের হয়ে এটিই আমার প্রথম গোল।”
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। কিক-অফের পরপরই দ্রুত আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দল, যার ফলেই আসে আনিকার রেকর্ড গড়া গোল। প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি।
শুধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নয়, বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসেও এটি দ্রুততম গোল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
প্রথম দিকে বাংলাদেশের দাপুটে খেলায় মনে হচ্ছিল ম্যাচটি একতরফা হবে। আরও কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয়। তৃতীয় মিনিটেই ঋতুপর্ণা চাকমার কর্নার থেকে নেওয়া শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে শামসুন্নাহার সিনিয়রের সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন। ঋতুপর্ণার পাস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
তবে দ্বিতীয় গোল আসে উমেহেলা মারমার দূরপাল্লার দারুণ এক শটে। এরপর আফঈদার জোরালো শটও লক্ষ্যভেদ করতে পারত, কিন্তু মালদ্বীপের গোলরক্ষক দক্ষতার সঙ্গে তা রুখে দেন।
আক্রমণে ধারালো হলেও রক্ষণে কিছুটা অগোছালো ছিল বাংলাদেশ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মালদ্বীপের মরিয়ম নূরা প্রথমার্ধে ব্যবধান কমান।
বিরতির পরও রক্ষণভাগে সমন্বয়হীনতা দেখা যায়। এর সুযোগে ম্যাচে সমতা ফেরায় মালদ্বীপের আমিনাথ ফজলা। ২-২ সমতায় ম্যাচ কঠিন হয়ে উঠলে কোচ পরিবর্তন আনেন।
বদলি খেলোয়াড়দের নেমেই ম্যাচে প্রভাব পড়ে। সুরভী আকন্দ প্রীতি বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় গোল করে আবারও দলকে এগিয়ে নেন। এরপর বাকি সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে আনিকা বলেন, “ম্যাচটি কঠিন ছিল। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি আমাদের জন্য জটিল হয়ে ওঠে। আমাদের আরও ভালো করা উচিত ছিল। তবে তিন পয়েন্ট পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে তিনি আরও বলেন, “বল আরও দ্রুত খেলতে পারলে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম।”
মালদ্বীপ সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক ছিল বাংলাদেশ দল বলেও জানান তিনি। ফিনিশিং নিয়েও কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করে আনিকা বলেন, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে গোলসংখ্যা আরও বাড়তে পারত।
পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচ যেমন দলকে কিছু দুর্বলতার জায়গা দেখিয়েছে, তেমনি আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর জন্য হয়ে থাকবে এক স্মরণীয় অভিষেক—মাত্র ১১ সেকেন্ডে জাতীয় দলের ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



