দুদিন আগেই মাকে ঢাকায় ফেরার সময় ছোট্ট মুখে বলেছিল, ‘মা, সাবধানে যেও।’ অথচ সেই সাবধান বাণী আজ শুধুই স্মৃতি, মাকে চিরদিনের জন্য একা ফেলে একমাত্র সন্তান নিজেই হারিয়ে গেল সবচেয়ে দূরের ঠিকানায়।

৭ বছরের আদরের সন্তান তাজবীরের জন্য পরম মমতায় নিজের হাতে রান্না করছিলেন মা ডা. ইসরাত জাহান রুবা। অথচ সেই খাবার টেবিলে আসার আগেই ফেরিঘাটের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ছেলেটি পাড়ি জমাল চিরতরে না ফেরার দেশে। মায়ের অবর্তমানে যেই মামার বুকে মাথা রেখে সে নিশ্চিন্তে ঘুমাতো, শেষ বিদায়ের বেলাতেও সেই মামার হাত ধরেই সে চলে গেল অচেনা গন্তব্যে।
ঈদের ছুটি শেষে গত বুধবার বিকেলে নানী ও মামার সাথে ঢাকায় ফিরছিল ছোট্ট তাজবীর রাজবাড়ী থেকে সবাই মিলে উঠেছিল সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে তাদের বহনকারী বাসটি সোজা তলিয়ে যায় পদ্মার বুকে। হাসিখুশি মুখগুলো চোখের পলকেই হারিয়ে যায় নদীর অতল গহ্বরে। দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই নিভে যায় রাজবাড়ীর ভবানীপুর গ্রামের রেহেনা আক্তার, তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে আহনাফ এবং আদরের নাতি তাজবীরের জীবন।
ছেলের ফেরার অপেক্ষায় থাকা মা ডা. ইসরাত জাহান রুবার পৃথিবী এখন শুধুই শূন্য। যে বাসাটি একটু পরেই ছেলের হৈহুল্লরে ভরে ওঠার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই অভাগী মায়ের বুকফাটা হাহাকার। সুদূর সুদানে বসে যেই মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বাবা একমাত্র সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছিলেন, এক লহমায় তার বংশের প্রদীপ চিরতরে নিভে গেল।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সাজানো একটি সুখের সংসার এভাবেই নদীর জলে ভেসে গেল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি হয়েছে, দেওয়া হয়েছে দাফনের জন্য সামান্য অনুদান। কিন্তু পৃথিবীর কোনো সান্ত্বনা বা অর্থই কি আর ফিরিয়ে দিতে পারবে সেই মায়ের কোল? তদন্তের কাগজে হয়তো দুর্ঘটনার কারণ লেখা থাকবে, কিন্তু একজন মায়ের কাছে তার কলিজার টুকরোকে হারানোর এই শূন্যতা আর কোনোদিনও পূরণ হবে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


