বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই না শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে। যদি কোনো শ্রমিক ভাই বা বোনের সন্তান মেধাবী হয়, রাষ্ট্র তার দায়িত্ব নেবে।

জামায়াত আমির বলেন, তিনি ‘চায়ের রাজধানী’ মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেছেন। চা শ্রমিকদের অবহেলা করা মানে নিজেকেই ভুলে যাওয়া হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। শ্রমিকদের সন্তানদের মেধা বিকাশের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে, যাতে একজন শ্রমিকের সন্তানও একদিন দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পৌঁছাতে পারে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া নবীনচন্দ্র স্কুল মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারির ভোট হবে বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার ভোট।
এবারের ভোট ২৪-এর যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। এই ভোটের সঙ্গে গণভোট ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ পাবো আমরা। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষ পরিবর্তন চায়। যে দেশ দুর্নীতিতে সেরা হয়, সে দেশ আমার দেশ নয়।
এই দেশে কোনো দুর্নীতি হবে না।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত না হওয়ায় প্রবাসীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হবে।
তিনি বলেন, পাহাড়ি, সমতল ও নিম্নাঞ্চলের সব জাতি–ধর্ম–শ্রেণির মানুষকে নিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতের লক্ষ্য। ‘এক শ্রেণি সম্পদের পাহাড় গড়বে আর আরেক শ্রেণি অনাহারে থাকবে—এটা হতে দেওয়া হবে না,’।
শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসে কর্মরত কোনো শ্রমিক মারা গেলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং তার পরিবারের দায়িত্ব সরকার নেবে। চুরি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ১২ তারিখের ভোট হবে বাংলাদেশ পরিবর্তনের ভোট, যা ‘চব্বিশের যোদ্ধা ও শহীদদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন’। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে বলে দাবি করেন জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এ দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। যুবকরাই ২৪ শের আন্দোলন করে নতুন স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। ৫ আগস্টের আগে আমাদের সভা করার, বক্তব্য দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। যুবকরাই আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আবু সাঈদ থেকে ওসমান হাদি, যাদের রক্তে আমরা আজকের এই দেশ পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নিঃস্বার্থ একটি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। দেশ-বিদেশ থেকে আমাকে কুলাউড়া থেকে নির্বাচন করার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি দুটি আসন থেকে নির্বাচন করতে পারি না। তবে কুলাউড়ায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী নির্বাচিত হলে তিনি হবেন এমপি। তবে ছায়া এমপি হিসেবে আমিও থাকবো তার পাশে। সুতরাং আপনারা এখানে দুজন এমপি পাবেন।
কুলাউড়া আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সায়েদ আলীর পরিচয় দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এই আসনে মূল প্রার্থী সায়েদ আলী এবং তিনি নিজে ‘ছায়া প্রার্থী’ হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহেদ আলী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী। সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলীয় নেতারা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


