নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত কিশোরী আমেনা আক্তার (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মেয়ের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে তাকে হত্যা করেছে তার সৎ বাবা আশরাফ আলী। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে এই তথ্য জানিয়েছেন নিহতের সৎ বাবা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার দুপুর আড়াইটায় নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক।
পুলিশ সুপার জানান, নিহত আমেনার সঙ্গে আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরার (২৮) আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সেই সুবাদে তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতো। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আসামি হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার আমেনাকে হযরত আলীর বাড়িতে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মাতবররা সালিশের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
এদিকে, মেয়ের এসব কর্মকাণ্ডে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ায় সৎ বাবা আশরাফ আলী ক্ষুব্ধ ছিলেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে আমেনার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে একাই হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন আশরাফ আলী।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আশরাফ আলীর কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় এবং অন্যান্য আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে গত শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করার পর তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। এর আগে গাজীপুরের মাওনা থেকে প্রেমিক নূর মোহাম্মদ এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন অভিযুক্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা খেত থেকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় সৎ বাবা আশরাফ আলী দাবি করেছিলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে একদল বখাটে তার হাত থেকে আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


