মধ্যযুগে গুপ্তচরদের পক্ষে চিঠি বহন করা ছিলো ঝুঁকির কাজ। তাই গুপ্তচররা আশ্রয় নিয়েছিল আরও নিঃশব্দ, আরও সূক্ষ্ম এক ভাষার ওপর। যা—পোশাক ও গহনার সংকেতের ভাষা। এখানে কালি বা কাগজের প্রয়োজন ছিল না; চোখই ছিল পাঠক, আর ফ্যাশনই ছিল বার্তা।

ইউরোপের রাজদরবারে নারীরা পরতেন ভারী ও আড়ম্বরপূর্ণ গহনা—হার, আংটি, ব্রোচ। কিন্তু সব অলংকার ছিল না কেবল সৌন্দর্যের জন্য। কোন আঙুলে আংটি, আংটির সংখ্যা কত, হারটি কয় স্তরের—সবই ছিল পূর্বনির্ধারিত সংকেতের অংশ।
ডান হাতে আংটি মানে ‘সব নিরাপদ’, আর বাম হাতে মানে ‘ঝুঁকি আছে’। এই সংকেতের ভাষা বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল ফরাসি রাজদরবারে। রানির দাসীরা শুধু পোশাক আর গহনার বিন্যাস দেখেই বুঝে নিত—আজ কি কোনো গোপন বার্তা চালান হবে, নাকি নীরব থাকাই ভালো হবে।
চুলের বিন্যাসও ছিল এক ধরনের সাংকেতিক ভাষা। খোঁপা যদি উপরে বাঁধা থাকে, যার মানে সংবাদ প্রস্তুত। খোঁপা নিচে নামানো থাকলে বুঝতে হতো—পরিকল্পনা বাতিল। ইংল্যান্ডে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে জড়িত নারীদের মধ্যে এই কৌশল ছিল বহুল ব্যবহৃত।
গুপ্তচরদের পোশাকের রঙও কথা বলত। কালো মানে শুধু শোক নয়—অনেক সময় তার অর্থ ছিল, ‘আক্রমণ আসছে’। নীল মানে ‘অপেক্ষা করো, এখনই নয়’। সাধারণ মানুষের চোখে এগুলো ছিল নিছক ফ্যাশন ট্রেন্ড, কিন্তু গুপ্তচরদের কাছে ছিল যুদ্ধের নির্দেশিকা।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই পদ্ধতির সবচেয়ে নিরাপদ ছিলো। ফলে ইতিহাসের আড়ালে, রেশমি পোশাক আর ঝলমলে গহনার ভেতর লুকিয়ে চলত নিঃশব্দ যুদ্ধ—যেখানে অস্ত্র ছিল রুচি, আর ভাষা ছিল নীরবতা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


