ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার পর এবং তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বেড়েছে। প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য ফের ১১০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, আর গ্যাসের দামও বেড়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১২ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিন থেকে প্রায় পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। যদিও পরে দাম কিছুটা কমেছে, তবুও এটি এখনও উচু অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাজ্যে গ্যাসের বেঞ্চমার্ক দামও প্রায় ছয় শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্ম ১৪৩.৫৩ পেন্সে পৌঁছায়, যা কিছুটা কমে প্রায় ১৪০ পেন্সে নেমেছে।
তবে, এই দাম এখনো মার্চের শুরুর তুলনায় কম। ৯ মার্চ বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬.৭৮ ডলার ছিল, আর ৩ মার্চ যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম ১৬২.৫৫ পেন্সে পৌঁছেছিল।
দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার খবরকে উল্লেখ করছেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই গ্যাসক্ষেত্রে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতির খবর আসে, যা ‘নর্থ ডোম’ গ্যাসক্ষেত্রের অংশ।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাউথ পার্সে আগুন লাগলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার জবাবে কঠোর প্রতিশোধ নেবে। হামলার কারণে ইরান থেকে ইরাকে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যদি অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৯২০ সালের ‘জোনস অ্যাক্ট’ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, যাতে তেল ও গ্যাস পরিবহন সহজ হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূল সমস্যা হলো সরবরাহ সংকট এবং যুদ্ধজনিত অনিশ্চয়তা, যা বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


