জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং মরুভূমির রুক্ষ প্রকৃতিকে বদলে দিতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করেছে সৌদি আরবের ন্যাশনাল ওয়াটার কোম্পানি (এনডব্লিউসি)। ‘সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’ (এসজিআই) প্রকল্পের আওতায় পবিত্র মদিনা অঞ্চলে এ পর্যন্ত ২১ লাখেরও বেশি গাছ রোপণ করেছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে এই সাফল্যের কথা জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগটি কেবল পরিবেশ রক্ষায় নয়, বরং সৌদির ভবিষ্যৎ সবুজ অর্থনীতির এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দেওয়ার এই অভিযানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার। এনডব্লিউসি জানিয়েছে, মদিনার এই বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে শতভাগ পরিশোধিত বর্জ্য পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমছে এবং বর্জ্য পানির কার্যকর পুনব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে।
২০২৫ সালটি ছিল এই প্রকল্পের জন্য টার্নিং পয়েন্ট; শুধুমাত্র গত বছরেই মদিনার উত্তর-পশ্চিম সেক্টরে রোপণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৭২ হাজার গাছ। বর্তমানে পুরো প্রকল্পের ১০ শতাংশ গাছ এমন এক পরিপক্ক অবস্থায় পৌঁছেছে যে সেগুলোকে আর আলাদা করে সেচ দিতে হয় না।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ২০২১ সালে এসজিআই যাত্রা শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য হলো ২০৬০ সালের মধ্যে দেশটিতে ‘নিট জিরো’ কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করা। মদিনার এই বনায়ন সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি মাইলফলক। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেজিটেশন কভার ডেভেলপমেন্ট-এর সাথে সমন্বয় করে এনডব্লিউসি আগামী বছরগুলোতে বৃক্ষরোপণ অভিযান আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের বায়ুর মান উন্নত হবে, বালুঝড় কমবে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, মদিনার এই সাফল্য বিশ্বের অন্যান্য শুষ্ক ও মরু অঞ্চলগুলোর জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা। বর্জ্য পানিকে কারিগরি প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত করে সেচ কাজে ব্যবহার করার এই কৌশলটি পরিবেশগত রূপান্তরের এক বড় উদাহরণ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


