রাজধানীর গুলশানে পথচারীকে মারধরের অভিযোগে আলোচনায় আসা রুশ–বাংলা মডেল মনিকা কবিরকে ঘিরে চলমান বিতর্কে এবার মুখ খুলেছেন কনটেন্ট নির্মাতা ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদির। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন এবং পুরো ঘটনাকে ঘিরে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তোলেন।

ভিডিওতে সালমান বলেন, মনিকা কবিরের ঘটনাকে ‘ভুক্তভোগী’ ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। এতে প্রকৃত নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রতি অসম্মান দেখানো হতে পারে। তার ভাষায়, আমি মনে করি মনিকা কবির কোনো সত্যিকারের ভুক্তভোগী না, আবার ওই লোকটাও হয়তো হয়রানিকারী না। মনিকা কবিরকে ভুক্তভোগী বললে যারা সত্যিই নিপীড়নের শিকার হন, তাদের অপমান করা হবে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। সালমানের মতে, অনেকেই দেশের বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই মন্তব্য করছেন। তিনি বলেন, অনেকে বাস্তবতা না বুঝেই বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো অন্যায় করে ফেলছে। প্রতিদিন সাধারণ মানুষ কীভাবে রাস্তায় চলাফেরা করে, সেই বাস্তবতা না জেনেই মন্তব্য করা হচ্ছে।
তবে নারীদের প্রতি যেকোনো ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার বিষয়েও তিনি স্পষ্ট মত দেন। সালমান বলেন, কোনও মেয়েকে যদি হয়রানি করা হয়, তার পোশাক নিয়ে কথা বলা হয় বা তার সম্মতি ছাড়া স্পর্শ করা হয় তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা সবাই সেই কথাই বলি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ঘটনায় আমরা কি সঠিক ব্যক্তির জন্য সঠিক কথা বলছি? তিনি কি সত্যিই ভুক্তভোগী?
মনিকা কবিরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ভিডিও ও কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সালমান মুক্তাদির। তার দাবি, এসব ভিডিও অনেকটাই ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা তৈরি করার জন্য বানানো হয়। তিনি বলেন, মনিকার ভিডিওগুলো মূলত তার মা ধারণ করেন। এটা প্রথম বা দ্বিতীয়বার নয় এর আগেও কয়েকবার এমন ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। এগুলো অনেকটাই উত্তেজনা তৈরির উদ্দেশ্যে বানানো কনটেন্ট।
তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এসে কেউ কনটেন্ট তৈরি করতেই পারেন, এতে সমস্যা নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে এমন ভিডিও তৈরি করা হলে সেটি ভিন্ন অর্থ বহন করে। সালমানের ভাষ্য, যদি সত্যিই কেউ হয়রানির শিকার হন, তার প্রতিক্রিয়া বা আচরণ কেমন হয় তা আমরা কল্পনা করতে পারি। সেই জায়গা থেকে ভাবলে এসব ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ভিডিওর শেষ দিকে সালমান মুক্তাদির মন্তব্য করেন, এ ধরনের কনটেন্টের কারণে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর আড়াল হয়ে যেতে পারে। তার মতে, যারা সত্যিই হয়রানির শিকার হন, তাদের অধিকার ও কণ্ঠস্বর যেন এমন ঘটনার কারণে চাপা পড়ে না যায় সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান এলাকায় এক পথচারীকে মারধরের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন মনিকা কবির। ঘটনাটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। পরে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


