সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ শহরের একটি বিউটি পার্লারের আড়ালে সংঘবদ্ধভাবে দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই চক্রের বিরুদ্ধে নারীদের জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামাতে নির্যাতনের ভয়ংকর অভিযোগও সামনে এসেছে। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক নারীকে মারধর করা, শিকলে বেঁধে আটকে রাখা এবং তার চুল কেটে মুখে কালি মেখে অপমান করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, শহরের পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় এলজিইডি অফিসের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ‘রাইসা বিউটি ঘর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক রত্না ইয়াছমিনসহ কয়েকজন মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলে দেহব্যবসা পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বাদী জানান, তিনি ওই বিউটি পার্লারে চাকরি করতেন। চাকরির সুযোগে পার্লারের মালিক রত্না ইয়াছমিন ও তার সহযোগীরা তাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন-বিউটি পার্লারের মালিক মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রামের রত্না ইয়াছমিন, তার ছেলে মো. তুষার রহমান (২৬), দেড়গ্রাম এলাকার তাজনীন আক্তার চাঁদনী (২৩), পশ্চিম সেওতা এলাকার রিফাত (২৫) ও রজ্জব (২৫), বাইচাইল গ্রামের জহিরুল ইসলাম টিপু (৪৫)সহ আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।
বাদীর অভিযোগ, গত ১১ মার্চ তার ১৩ বছর বয়সী ছোট বোন বেড়াতে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তরা তাকে দিয়েও দেহব্যবসা করানোর প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৪ মার্চ রাত আনুমানিক ১টার দিকে কয়েকজন আসামি তার উত্তর সেওতা এলাকার বাসায় গিয়ে তাকে চাপ প্রয়োগ করে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করে জোরপূর্বক পশ্চিম বান্দুটিয়ার ওই পার্লারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় এবং হাত বেঁধে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে পার্লারে ব্যবহৃত ধারালো কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মুখে কালি মেখে তাকে অপমান করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাইরে থেকে এটি বিউটি পার্লার হলেও ভেতরে ভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চলত বলে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল।
এদিকে ভুক্তভোগীর স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ রত্না ইয়াছমিন, তুষার রহমান ও তাজনীন আক্তার চাঁদনীকে আটক করে। তবে অন্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
পরে আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী নারীকে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


