প্রত্যেক অভিনেতাই চান তার অভিনীত চরিত্রটি এমনভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে, যাতে তা দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে ওঠে। তবে এমন একজন অভিনেতার গল্প রয়েছে, যিনি মৃত্যুর অভিনয় করতে গিয়েই বাস্তবে জীবন হারান—আর সেই সময় উপস্থিত সবাই তার অভিনয় ভেবে হাততালি দিচ্ছিলেন।

এই অভিনেতা হলেন গোপ। হাস্যরসাত্মক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই দর্শকদের মুখে হাসি ফুটে ওঠা। জনপ্রিয় গান মেরে পিয়া গায়ে রঙ্গুন-এ তার সঙ্গে ছিলেন নিগার সুলতানা, যা আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
১৯৩৩ সালে ইনসান ইয়া শয়তান চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিনয়জীবন শুরু হয়। প্রথম ছবিতেই সাফল্য পাওয়ার পর তিনি নিয়মিত অভিনয় করতে থাকেন এবং দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
১৯৫৭ সালের ১৯ মার্চ তিসরি গালি চলচ্চিত্রের শুটিং চলছিল। একটি দৃশ্যে তার চরিত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যাওয়ার কথা ছিল। ক্যামেরা চালু হতেই গোপ সেই দৃশ্য অভিনয় করেন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার অভিনয় এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে উপস্থিত সবাই হাততালি দিতে শুরু করেন।
পরিচালক দৃশ্য শেষ হওয়ার নির্দেশ দিলেও গোপ আর উঠলেন না। প্রথমে সবাই ভেবেছিলেন তিনি অভিনয়ের অংশ হিসেবেই শুয়ে আছেন। কিন্তু পরে কাছে গিয়ে দেখা যায়, তিনি আর জীবিত নেই। অভিনয় করতে করতেই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। ভক্তরাও গভীর শোকে ডুবে যান। যিনি সবার মুখে হাসি ফোটাতেন, তার এমন বিদায় কেউ কল্পনাও করেননি।
গোপের অভিনীত চরিত্রগুলোর নামও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী ও মজার। যেমন—‘মাখখি চুস’ ছবিতে মানিক লাল মাখখি চুস, ‘শারদা’তে হুকুম দাস, ‘পকেট মার’ ছবিতে উধার চাঁদ ডাব্বু, ‘বারাদ্রি’তে লট্টু সিং, ‘তারানা’তে তোতে রাম তোতে এবং ‘সাজা’ ছবিতে শেঠ মতুলাল—এ ধরনের নাম তার চরিত্রগুলোকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছিল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


