রাজনীতিতে নারীর অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে যখন বারবার প্রশ্ন ওঠছে, তখন নেপাল বিশ্বকে দেখাল এক দৃষ্টান্ত। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ, যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘বলেন শাহ’ নামে বেশি পরিচিত।

গত শুক্রবার রাজধানী কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবন ‘শীতল নিবাসে’ জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে শপথ নেয় নতুন সরকারের ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) সিনিয়র নেতা বলেন্দ্র শাহর এই মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ৫ নারী। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধি।
নতুন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন সবিতা গৌতম। ৩০ বছর বয়সী সবিতা পেশায় আইনজীবী। এলএলএম পড়ছেন কাঠমান্ডু স্কুল অফ ল’তে। গত ৫ মার্চের ভোটে চিতওয়ান-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি।
মহিলা, শিশু ও জ্যেষ্ঠ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন সীতা বাদি। নেপালের অবহেলিত ও প্রান্তিক ‘বাদি’ সম্প্রদায় থেকে প্রথম মন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়লেন সীতা। দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক নারীদের সেলাই ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। শপথ গ্রহণের পর আবেগঘন কণ্ঠে সীতা বলেন, ‘বাদি ও দলিত সম্প্রদায়ের নারীদের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’
ফেডারেল অ্যাফেয়ার্স ও সাধারণ প্রশাসন বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন প্রতিভা রাওয়াল। সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে আসার আগে প্রতিভা ‘গ্যালাক্সি টেলিভিশনের’ প্রোগ্রাম প্রডিউসার ছিলেন। ১০ বছরের বেশি সময় তিনি সাংবাদিকতা করেন। তাকে ভূমি ব্যবস্থাপনা, সমবায় এবং দারিদ্র্য বিমোচন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিশা মেহতা হয়েছেন স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক মন্ত্রী। তিনি পেশায় একজন অভিজ্ঞ নার্স। ভারত থেকে নার্সিংয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি বিরাটনগর টিচিং হাসপাতালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। নেপালের স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন নিশা।
গীতা চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে কৃষি, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। থারু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি গীতা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নেপালের পার্লামেন্টে প্রতিটি দলের জন্য ৩৩ শতাংশ নারী কোটা বাধ্যতামূলক থাকলেও মন্ত্রিসভার ক্ষেত্রে এটি আগে কখনও অর্জিত হয়নি। নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর আগে ২০২২ সালে গঠিত ২৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী ছিলেন ৬ জন (২৬ শতাংশ)। এরআগে, ২০১৭ সাল শের বাহাদুর দেউবার ৫৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী ছিলেন মাত্র ৮ জন (১৫ শতাংশ)। নেপালের ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে বড় মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক ৩৩ শতাংশ পূরণ করেননি, তিনি মন্ত্রিসভায় নেপালের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তার মন্ত্রিসভায় রয়েছেন খাস আর্য (উচ্চবর্ণ), দলিত ও বাদি (প্রান্তিক গোষ্ঠী), মাধেসি (তরাই অঞ্চল) এবং থারু ও জনজাতির প্রতিনিধি।
গত শুক্রবারই নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আরএসপি নেতা বলেন্দ্র শাহ। শীতল নিবাসে তাকে শপথ পাঠ করান প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল। বলেন্দ্র শাহ নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীদের একজন। তিনি মাধেসি সম্প্রদায়ের মানুষ। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম মাধেসি সম্প্রদায়ের কোনো নেতা প্রধানমন্ত্রী হলেন। এই নৃগোষ্ঠী মূলত ভারতের সীমান্তবর্তী নেপালের দক্ষিণ সমতল এলাকায় বসবাস করে। শপথ নেওয়ার সময় ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহের পরনে ছিল আঁটসাঁট ট্রাউজার্স ও জ্যাকেট, মাথায় কালো নেপালি টুপি আর চোখে সানগ্লাস। র্যাপার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বলেন্দ্র শাহ ২০২২ সালে কাঠমান্ডু সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে আলোচনায় আসেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিন বছরের পুরোনো দল আরএসপি গত ৫ মার্চের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ২৭৫ আসনের মধ্যে ১৮২ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি আন্দোলনে সরকার পতনের পর এটিই নেপালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন। সূত্র: দ্য হিমালয়ান টাইমস
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


