অন্ধকার মহাকাশে চারদিকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য তারার ঝিলিক। হঠাৎই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক বিশাল আলোর স্রোত—এটাই আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি, মিল্কিওয়ে। এমন দৃশ্য যে কাউকেই মুগ্ধ করে থমকে দাঁড় করিয়ে দেয়।

সম্প্রতি নাসা জানিয়েছে, তাদের আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা চাঁদের পাশ দিয়ে যাত্রার সময় এই অসাধারণ দৃশ্য ধারণ করেন। ওরিয়ন মহাকাশযানের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে তারা একের পর এক ছবি তোলেন।
ছবিগুলোতে দেখা যায় অসংখ্য তারা আর মহাকাশের ধুলা ও গ্যাসের উজ্জ্বল মেঘ। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল না থাকায় তারাগুলো এখানে আরও স্পষ্ট ও ঝকঝকে হয়ে ধরা দিয়েছে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, মিল্কিওয়ে একটি সর্পিল আকৃতির গ্যালাক্সি, যা ঘূর্ণায়মান চক্রের মতো বিস্তৃত। এর কেন্দ্রভাগে রয়েছে একটি তারার দণ্ড, যেখান থেকে দুইটি বড় বাহু বা বিস্তৃত অংশ ঘুরে বেরিয়ে গেছে। আমাদের পৃথিবী এই একটি বাহুতেই অবস্থান করছে, গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে মাঝামাঝি দূরত্বে।
এই অভিযানের সময় নভোচারীরা চাঁদের সেই অংশও দেখার সুযোগ পান, যা পৃথিবী থেকে কখনো দেখা যায় না—অর্থাৎ চাঁদের অদৃশ্য পাশ। পাশাপাশি তারা অর্ধচন্দ্রাকৃতির পৃথিবীর ছবিও ধারণ করেন, যা ভবিষ্যৎ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই মিশনে অংশ নেন রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। তাদের তোলা এসব ছবি দেখে অনেকেই একে “স্বর্গীয় দৃশ্য” হিসেবে বর্ণনা করছেন।
এমন বিরল ছবি সাধারণ মানুষের জন্য নিজেদের মহাবিশ্বকে নতুনভাবে দেখার এক অসাধারণ সুযোগ তৈরি করেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


