মহাবিশ্বের বিশাল ছায়াপথগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে রাখার পেছনে যে অদৃশ্য শক্তি কাজ করে, তার নাম ডার্ক ম্যাটার। এতদিন এই রহস্যময় পদার্থকে সরাসরি দেখা সম্ভব না হলেও এবার এর সবচেয়ে উন্নত ও সূক্ষ্ম মানচিত্র তৈরি করেছে নাসা।

নাসার বিজ্ঞানীরা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যের সঙ্গে আগের বিভিন্ন গবেষণার ডেটা যুক্ত করে এই মানচিত্র তৈরি করেছেন। গবেষণাটি ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে প্রকাশিত হয়। এতে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি, যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুইজারল্যান্ডের ইপিএফএল যৌথভাবে কাজ করেছে।
এই মানচিত্র তৈরিতে প্রায় ৮ লাখ গ্যালাক্সির ছবি ও তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। মানচিত্রে ডার্ক ম্যাটারকে নীল রঙে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেহেতু ডার্ক ম্যাটার চোখে দেখা যায় না, তাই এর অস্তিত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে গ্যালাক্সির ওপর এর মাধ্যাকর্ষণ প্রভাব বিশ্লেষণের মাধ্যমে।
গবেষণার প্রধান লেখক ডায়ানা স্কোগনামিগ্লিও জানান, এটি এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া সবচেয়ে বড় ও উচ্চ রেজুলেশনের ডার্ক ম্যাটার মানচিত্র। আগের মানমন্দিরগুলোর তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ স্পষ্ট।
নতুন মানচিত্রে দেখা যায়, ডার্ক ম্যাটার পুরো মহাবিশ্বজুড়ে জালের মতো বিস্তৃত। বড় গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের আশপাশে এর ঘনত্ব বেশি, আবার এক ক্লাস্টার থেকে অন্য ক্লাস্টারের দিকে সরু রেখার মতো বিস্তার রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ডার্ক ম্যাটারের আকর্ষণ শক্তির কারণেই গ্যাস ও ধুলো একত্রিত হয়ে গ্যালাক্সি গঠনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নাসার মতে, এই মানচিত্র মহাবিশ্বের জন্ম, গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের বোঝাপড়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


