নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ১১ দলীয় জোট সরকারে আসলেও নতুন বন্দোবস্তের লড়াই চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিটা হলে দলের ৩৬ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এমনটা জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন আমরা গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে ২০২৪ পরবর্তী সময়ে দেশে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছি এবং সেই দল একটি জোট প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আমরা যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শুরু করি, তখন কিছু প্রতিশ্রুতির ঘোষণাপত্র দিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম।
তিনি বলেন, এনসিপির যাত্রা শুরুর আগে আমাদের রুট ছিল গণঅভ্যুত্থান। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে আমাদের দলে নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে, আমাদের চিন্তা বা আদর্শের জায়গা তৈরি হয়েছে। আমরা ৩ আগস্ট শহিদ মিনারে স্পষ্ট কয়েকটি কথা বলেছিলাম- ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত।
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা আমাদের নতুন বন্দোবস্তের যে লড়াই, যে দাবি নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম, এখনো সেই দাবিতেই আছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রথমত আমাদের লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক পরিবর্তন। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম, কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে একটি সংস্কারের মধ্যদিয়ে ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সেটির মধ্যস্থতা হয়। সেখানে আমরা আমাদের পুরোপুরি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি। ফলে নতুন বন্দোবস্তের যে আকাঙ্ক্ষা, সেটিকে আমরা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে দেখি। দীর্ঘমেয়াদি যাত্রার মধ্যদিয়ে আমাদের এটি অর্জন করতে হবে।
এনসিপির এই আহ্বায়ক বলেন, আমরা অনেক সুযোগ হারিয়েছি। কিন্তু এই সময়ে আমাদের অনেক সম্ভাবনা, অনেক অর্জন রয়েছে। ফলে সংস্কারের অনেক প্রতিশ্রুতি আমরা পেয়েছি, যা নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে এবং আমরা নতুন বন্দোবস্তের সেই লড়াইয়ের দিকে যাব।
নির্বাচনি জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোট প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন- আমাদের নতুন বন্দোবস্তের যে লক্ষ্য, পুরোনো দলের সঙ্গে জোট করার ফলে আমরা সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসলাম কিনা। আমরা ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছি যে, আমাদের জোটের ন্যূনতম কিছু রাজনৈতিক জায়গায় ঐকমত্য রয়েছে এবং মূলত এটি নির্বাচনি একটি জোট। এমনকি জোটের নামও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। আমাদের চেষ্টা থাকবে এই জোটের মধ্যদিয়ে আমাদের সংস্কারের যে দাবি, আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করব এবং আমাদের প্রধান্যগুলোই আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ কারণে ইশতেহারও আমরা আলাদা করেছি। এনসিপির পক্ষ থেকে আলাদা ইশতেহার, জামায়াতে ইসলামও তাদের আলাদা ইশতেহার দিয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিনি বলেন, যদি ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করে, সরকারে আমাদের যে অংশীদারিত্ব থাকবে, সেখানে আমাদের ইশতেহারে থাকা বিষয়গুলোতে প্রাধান্য দেবো। সেই সরকারের মধ্যে থেকে সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাব। যেভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা করেছি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


