বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নরের যোগ্যতা ও বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে সংস্থাটি র্যাব বিলুপ্ত করা এবং স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গৃহীত সব অধ্যাদেশ জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব দাবি ও ১১ দফা সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। ‘বিএনপি সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য: টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক এই সেমিনারে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের কিছু উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক হলেও বেশ কিছু পদক্ষেপ হতাশাজনক। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নরের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন গভর্নরকে নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠছে, তা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলে এমন নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না। স্বচ্ছতার স্বার্থে এই নিয়োগ বাতিল করে একজন পরীক্ষিত, অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে।
সংস্থাটি তাদের সুপারিশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল ও অর্থ পাচারের মাধ্যম হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যবহার না করার আহবান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিতর্কিত বাহিনী র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি তোলা হয়েছে।
পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন ২০২৫’ অধ্যাদেশ বাতিল করে সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন আইন প্রণয়ন করতে হবে।
এছাড়া ১১ দফা সুপারিশের উল্লেখযোগ্য দিনগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিএনপির ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করে একটি কার্যকর কৌশল ও পথরেখা প্রণয়ন করা; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা কোন কোন অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে আর কোনগুলো হবে না এবং কেন হবে না, তা জনসম্মুখে স্পষ্ট করা; সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান শুরু করা এবং দখলবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া; জুলাই সনদের ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ক্ষমতার অপব্যবহার অবৈধ ঘোষণা করা; কালো টাকা সাদা করার সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে আইন প্রণয়ন করা ইত্যাদি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান সরকারের কিছু মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের একজন মন্ত্রী চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার মতো বক্তব্য দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, দলবাজি ও দখলবাজিকে স্বাভাবিকতা দিকে যেকোনো অপচেষ্টা রুখতে সরকারকে এখনই কঠোর হতে হবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এই কৌশলগত বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহবান জানিয়েছে টিআইবি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


