নির্বাচনের পর যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তারা যদি শহিদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার না করে তাহলে তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশের হামলা নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, আমরা আমাদের এক ভাইকে (হাদি) হারিয়েছি। এরপর আমাদের আর কোনও ভাইকে হারালেও নির্বাচন ১২ তারিখে হইতে হবে। নির্বাচন পেছানো যাবে না। তবে নির্বাচনের পরে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, তারা যদি হাদি হত্যার এই ব্যাপারে সুষ্ঠু কোনও পদক্ষেপ না নেয়। আমরা শুধু বলি ব্যাপারটা এমন ‘আমরা তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানাই দেব’ বলছি। তাদের জীবনকে জাহান্নাম বানাই দেব।
তিনি বলেন, শহিদ উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে নিশ্চিত করার দাবিতে যমুনা এলাকার সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এতে তাদের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
জাবের বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর আহ্বান জানাতে সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের অভিযোগ, কয়েকজন প্রতিনিধিকে ভেতরে পাঠানোর চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি ও হামলার ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, কয়েকজন নারীসহ আন্দোলনকারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকজনের মাথা, মুখ ও হাতে গুরুতর আঘাতের কথাও জানান তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, তারা শুধু শহিদ উসমান হাদির হত্যার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চান, যা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সরকারকে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, দায়িত্ব পালনকারী অনেক পুলিশ সদস্যের পোশাকে নামফলক ছিল না এবং মুখে মাস্ক ও হেলমেট পরা ছিল, যা তাদের সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। তবে যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, সরকার আগে মৌখিকভাবে জাতিসংঘের অধীনে তদন্তে সম্মত হওয়ার আশ্বাস দিলেও কোনও সময়সীমা দেয়নি। এখন তারা ৮ তারিখের মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর কথা বলেছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিনি বলেন, শুধু সরাসরি হামলাকারী নয়, হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনা, সহায়তাকারী ও আশ্রয়দাতাদেরও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


