নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ছাগল ও কুকুরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বিএনপি নেতার হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামে।
অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়া ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আহত গৃহবধূ আশা আক্তার (২১) বর্তমানে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আশা আক্তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার ভাইয়ের একটি কুকুর প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়ার ছাগলের কাছে ঘোরাফেরা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফেরদৌস মিয়া ও তার সহযোগীরা আশার ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে বাবা দিলখোশ মিয়া ও মা সালেমা আক্তারও হামলার শিকার হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা আশা আক্তার পরিস্থিতি থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়। পরে তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকেরা তার গর্ভপাত হয়েছে বলে জানান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিলখোশ মিয়া মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
আশা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ভাইকে রক্ষা করতে গেলে তাকে পেটে লাথি মারা হয়। এরপর রক্তক্ষরণ শুরু হলে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানতে পারেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী সালমান শাহ অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রথমে অভিযুক্তকে আটক করলেও পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলে প্রমাণ মিলবে বলেও তিনি দাবি করেন।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহীদুল্লাহ জানান, পরীক্ষায় ওই নারীর গর্ভপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুয়াইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা জামিল স্বপন বলেন, অভিযোগের আগে ওই নারীর গর্ভপাত হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি শুনেছেন এবং বিষয়টিতে ফেরদৌস মিয়াকে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে অভিযুক্তকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, নারীকে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্তকে জরিমানা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



