নিম গাছ আমাদের উপমহাদেশে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এর পাতা, ডাল, ছাল ও রস—প্রতিটি অংশই বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহারযোগ্য। জীবাণুনাশক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে নিমের সুনাম রয়েছে অনেক আগে থেকেই।

নিচে নিমের প্রধান উপকারিতা ও ব্যবহার নতুনভাবে তুলে ধরা হলো—
কৃমি ও জীবাণু প্রতিরোধে
নিমপাতার রসে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল গুণ রয়েছে।
শিশুদের পেটে কৃমি হলে ওজন কমে যাওয়া, পেট ফাঁপা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
নিমপাতা কৃমি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো ভেষজ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ত্বকের যত্নে নিমের ব্যবহার
রূপচর্চায় নিমের ব্যবহার বহু পুরোনো।
ব্রণ কমাতে: নিমপাতা বেটে মুখে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
ত্বকের দাগ হালকা করতে: নিয়মিত ব্যবহারে দাগ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ময়েশ্চার ধরে রাখতে: ত্বকের শুষ্কতা কমাতে সহায়ক।
উজ্জ্বলতা বাড়াতে: নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে পেস্ট করে লাগালে স্কিন টোন উন্নত হতে পারে।
স্ক্যাল্পের চুলকানি কমাতে: নিমপাতার রস মাথায় ব্যবহার করলে আরাম মেলে।
চুলের পরিচর্যায় নিম
চুলের স্বাস্থ্যে নিম কার্যকর ভেষজ উপাদান হিসেবে পরিচিত।
খুশকি দূর করতে: নিমপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে শ্যাম্পুর পর চুল ধুয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
চুল পড়া কমাতে: সপ্তাহে একদিন নিমপাতা বেটে চুলে লাগিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেললে উপকার মিলতে পারে।
চুল নরম রাখতে: নিয়মিত ব্যবহারে চুলের গঠন উন্নত হয়।
দাঁতের সুরক্ষায় নিম
প্রাচীনকাল থেকেই নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজা (মেসওয়াক) প্রচলিত।
নিমের ডাল বা ছালের গুঁড়া দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলে দাঁত মজবুত থাকে।
মাড়ির সুস্থতা রক্ষা ও দন্তরোগ প্রতিরোধে এটি সহায়ক হিসেবে বিবেচিত।
কিছু সতর্কতা
অতিরিক্ত নিমপাতার রস পান করা উচিত নয়।
গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগছেন—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


