‘ঢাকা-৯ আর অবহেলার শিকার হবে না’—এই প্রত্যয়ে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এই প্রার্থী গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও এমপির জবাবদিহিতা—এই ছয়টি মূল খাতকে সামনে রেখে তার ইশতেহার তুলে ধরেন।

ইশতেহারে ডা. তাসনিম জারা বলেন, গুলশান-বনানীর মতো সমান ট্যাক্স দিয়েও ঢাকা-৯-এর মানুষ তৃতীয় শ্রেণির সেবা পাচ্ছে। ভোটের সময় নেতারা এসে প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর উধাও হয়ে যান, এই সংস্কৃতির অবসান ঘটাতেই রাজনীতিতে এসেছি বলে জানান তাসনিম জারা। নিজেকে পেশাদার রাজনীতিবিদ নয়, বরং ‘এই এলাকার মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা-৯-কে রাষ্ট্র শুধু টাকা নেয়ার জায়গা হিসেবে দেখা হয়েছে, সেবা দেওয়ার জায়গা হিসেবে নয়।
গ্যাস সংকট নিয়ে তিনি সরাসরি ‘প্রতারণা’র অভিযোগ তুলে বলেন, গ্যাস না থাকলেও নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে তিনি সংসদে ‘সেবা না দিলে বিল নেই (No Service, No Bill)’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাবের অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি পাইপলাইন গ্যাসের ব্যর্থতার কারণে ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রাস্তা কাটার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে ঠিকাদারকে জরিমানার প্রস্তাব দেন।
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে ইশতেহারে বলা হয়, ঢাকা-৯ এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষের জন্য একমাত্র বড় সরকারি হাসপাতাল মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যা সম্পূর্ণ অপ্রতুল। একজন চিকিৎসক হিসেবে ডা. তাসনিম জারা মুগদা হাসপাতালে জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি বাড়ানো, কমিউনিটি ক্লিনিককে ‘মিনি হাসপাতাল’-এ রূপান্তর এবং সারা বছরব্যাপী স্থায়ী ডেঙ্গু টাস্কফোর্স গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। নারী ও মাতৃস্বাস্থ্যের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন তিনি।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর ঢাকা-৯-এর অনেক এলাকায় নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন না। তার ইশতেহারে স্কুল, কলেজ ও কর্মস্থলের রাস্তায় সিসিটিভি ও শক্তিশালী স্ট্রিট লাইট স্থাপন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
শিক্ষাখাতে ভর্তি বাণিজ্য ও অপরিকল্পিত নীতির কড়া সমালোচনা করে ডা. তাসনিম জারা ঘোষণা দেন, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো কোটা বা সুপারিশ থাকবে না। মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। তিনি স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, লাইব্রেরি, কোডিং ও এআই শিক্ষা চালু করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ইশতেহারে তরুণ উদ্যোক্তা ও কর্মজীবী নারীদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ সিড ফান্ড, জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ই-কমার্স প্রশিক্ষণ।
এমপির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডা. তাসনিম জারা নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী অফিস চালু, ডিজিটাল অভিযোগ ড্যাশবোর্ড চালু এবং কোনো প্রটোকল বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই নাগরিক সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ইশতেহারের শেষাংশে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করার একটি সুযোগ এসেছে। আমার এই ইশতেহার কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, এটি ঢাকা-৯ এর মানুষের সঙ্গে আমার চুক্তি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


