সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৪৭ লাখ টাকায় নির্বাচনের খরচ চালাবেন ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণীতে এ তথ্য উল্লেখ করেন তিনি।

বিবরণীতে তিনি বলেন, জনসাধারণ থেকে ‘ক্রাউড ফান্ডিংয়ের’ (গণঅনুদানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। ওই অর্থের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব থাকাকালে নির্বাচনি ব্যয় চালাতে অর্থ সংগ্রহ করেন তাসনিম জারা। এর মধ্যেই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনি জোট নিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। ঘোষণা দেন ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার।
একই সঙ্গে সংগ্রহ অর্থ কেউ চাইলে বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার কথা জানান জারা। এর মধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচনি হলফনামায় ক্রাউড ফান্ডিংয়ে পাওয়া প্রায় ৪৭ লাখ টাকার পুরোটাই নির্বাচনে ব্যয়ের কথা জানান তিনি।
হলফনামায় পেশা হিসেবে চিকিৎসকের পাশাপাশি শিক্ষকতা ও উদ্যোক্তার কথা উল্লেখ করেন তাসনিম জারা। ৩১ বছর বয়সি জারা আয়ের মূল উৎস হিসাবে চাকরির কথা উল্লেখ করেন।
হলফনামায় তিনি বলেন, দেশের ভেতরে চাকরি করে বছরে সাত লাখ ১৩ হাজার টাকা আয় করেন। এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে দেশের ভেতরে তার বছরে আয় ২৬৪ টাকা। আর দেশের বাইরে এ খাত থেকে তার আয় হয় তিন হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী-তাসনিম জারার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ১৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের দুই হাজার ২৭০ পাউন্ড, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১০ হাজার ১৯০ টাকা। আড়াই লাখ টাকা মূল্যের সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমার বিবরণীতে তাসনিম জারা বছরে সাত লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা আয় দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকা। আর আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা।
হলফনামায় তাসনিম জারা নির্ভরশীল হিসাবে স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর নাম উল্লেখ করেন। খালেদ সাইফুল্লাহ পেশায় একজন উদ্যোক্তা। তার দেশের ভেতরে কোনো আয় নেই। তবে দেশের বাইরে বছরে ৩৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড আয় করেন। আর শেয়ার, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় করেন চার হাজার ৮০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
তাসনিম জারার স্বামীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ ১৫ লাখ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা আছে ১০ লাখ টাকা মূল্যের। তার স্বামীরও কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


