ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সময়ের নির্বাচনে পাওয়া বিজয়কে যদি আদালতের রায়ের মাধ্যমে ‘অবৈধ’ বলা হয়, তাহলে সেই সময়ের ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সব সিদ্ধান্তও অবৈধ হয়ে যাবে—এমন দাবি তুলেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ নিয়ে আলোচনা হয় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম-এর বক্তব্যকে ঘিরে। সিটি করপোরেশন বিলের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিতে হয়েছিল। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণেও বিশেষ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইশরাক হোসেন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নির্বাচন কমিশনের গেজেট পান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে শপথ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি।
এই বক্তব্যের পরই পয়েন্ট অব অর্ডারে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ভুল তথ্য রয়েছে এবং তা সংশোধন করা প্রয়োজন। তার মতে, ইশরাক হোসেনের আন্দোলনের সময়কাল নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে, কারণ ওই সময়ের আগেই তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তী ঘটনাগুলো উল্লেখ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হতো, কারণ আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে সংসদ নেতার কাছে একটি ট্রফি হস্তান্তর করেছিলেন।
পরবর্তীতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, তার নির্বাচনী বিজয়কে অবৈধ বলা হলে সেই সময়ের আপিল বিভাগের রায়ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তিনি যুক্তি দেন, যে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই একই কাঠামোর মধ্যে তার নির্বাচনী ফলাফল বহাল রাখা হয়েছিল।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, যদি তার নির্বাচনকে অবৈধ বলা হয়, তাহলে সেই সময়কার সরকারের সব কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ তার রায় বহাল রেখেছিল এবং এই বিষয়টি নিয়ে তিনি তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


