ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর এবার তিনি উল্টো প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রশাসন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সরাইল উপজেলার ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন যে ইউএনওর একটি দাপ্তরিক চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম সেটি প্রকাশ করেছে। একটি সরকারি চিঠি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এভাবে ভাইরাল হওয়াকে তিনি অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন।
ভিডিওতে তিনি ইউএনওর চিঠির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—১৭ জানুয়ারি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় তিনি একটি বড় প্যান্ডেলে জনসমাবেশ করে নির্বাচনি প্রচারণা চালান, যা নির্বাচনি আচরণবিধি ২০২৫-এর ১৮ ধারার লঙ্ঘন। এ সময় সমাবেশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং জুয়েল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, ওই সময় রুমিন ফারহানা নাকি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং হুমকিসূচক বক্তব্য দেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও ক্লিপ সংযুক্ত করার কথাও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগকে একপাক্ষিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তোলেন—যে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজের সই করা চিঠির গোপনীয়তা একদিনও রক্ষা করতে পারেন না, তার হাতে পাঁচ লাখ ভোটারের ভোট কীভাবে নিরাপদ থাকবে? তিনি কিভাবে নির্বাচনের দিন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি তিনি নিজেও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ জেলা রিটার্নিং অফিসে জমা দিয়েছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি বা পদক্ষেপের খবর তিনি পাননি।
রুমিন ফারহানার অভিযোগ, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী নিয়মিত মাইকিং করে বড় জনসভা করছেন। স্টেজ, সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রচারণা চালানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট প্রমাণসহ ফাইল জমা দেওয়া হলেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা যখন প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন, তখন প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—যা নির্বাচনের সমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি করছে।
বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের অভিযোগ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, আশুগঞ্জ উপজেলায় এক জনসভায় বিএনপির এক নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ বোঝাতেই তিনি ওই উদাহরণ দিয়েছিলেন। সেখানে সেই নেতা মঞ্চ থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, প্রশাসন তাদের কিছু করতে পারবে না। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটই তিনি তুলে ধরেছেন বলে দাবি করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, এসব প্রশ্ন তিনি ব্যক্তিগত কারণে নয়, বরং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার স্বার্থেই তুলেছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


