নব্বই দশকের শুরুর দিকে বলিউডে যেন ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটেছিল দিব্যা ভারতীর। খুব অল্প সময়েই তিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন, আবার একইভাবে হঠাৎ করেই চলে যান। আজও তার নাম উচ্চারিত হলেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক ধরনের আক্ষেপ ও অপূর্ণতার অনুভূতি দেখা যায়। আজ তার ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল মাত্র ১৯ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই তাকে খুব বেশি না চিনলেও, তার সম্পর্কে জানতে হলে ফিরে যেতে হয় নব্বইয়ের দশকে। ১৯৯২ সালে ‘বিশ্বাত্মা’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে তার অভিষেক ঘটে। এর আগে ১৯৯০ সালে তেলেগু ছবি ‘বাবলি রাজা’ দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে তার যাত্রা শুরু হয়। জন্ম মুম্বাইয়ের জুহুতে হলেও, প্রথমে তেলেগু চলচ্চিত্রেই একের পর এক সাফল্য অর্জন করেন তিনি। ‘নিলা পেনি’, ‘না ইল্লে না সরগম’, ‘রাউডি আল্লাডু’, ‘এসেম্বলি রাউডি’ ও ‘ধর্মাক্ষেত্রম’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা পান। এমনকি তার জনপ্রিয়তার কারণে তামিলনাড়ুতেও তার নামে মন্দির স্থাপন করা হয়েছিল।
বলিউডে ‘বিশ্বাত্মা’ ছবিতে সানি দেওলের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি আলোচনায় আসেন। ছবির ‘সাত সামুন্দর’ গানটি আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। এরপর দ্রুতই একের পর এক ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত ‘শোলে অর শাবনাম’ ছবিতে গোবিন্দর সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
তবে তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘দিওয়ানা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। ছবিটি সেই বছরের অন্যতম সফল চলচ্চিত্রে পরিণত হয় এবং শাহরুখ খানও এ ছবির মাধ্যমে সেরা নবাগত অভিনেতার স্বীকৃতি পান।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই ১৪টি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে এক বিরল রেকর্ড গড়েন দিব্যা ভারতী। জীবদ্দশায় তার শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল ‘খাতরিয়া’। মৃত্যুর পর আরও কয়েকটি ছবি মুক্তি পায়, যেখানে তার অসমাপ্ত চরিত্র অন্য অভিনেত্রীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। তার হাতে তখন আরও কয়েকটি বড় কাজ ছিল—যেমন ‘লাডলা’, ‘মোহরা’ ও ‘আন্দোলন’, যেখানে পরবর্তীতে অন্য অভিনেত্রীদের নেওয়া হয়।
১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল রাতে মুম্বাইয়ের তুলসি অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলার বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। দুই দিন পর সম্পন্ন হয় তার শেষকৃত্য, যেখানে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অসংখ্য তারকা উপস্থিত ছিলেন।
তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা রহস্য ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। কেউ এটিকে দুর্ঘটনা মনে করলেও, কেউ কেউ হত্যার সন্দেহ প্রকাশ করেন। এমনকি তার স্বামী সাজিদ নাদিওয়ালাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামও আলোচনায় আসে। তবে ১৯৯৮ সালে মুম্বাই পুলিশ এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবেই চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করে।
দিব্যা ভারতীর মৃত্যু আজও রহস্যে ঘেরা, অনেকটা আমাদের দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যুর মতোই। তবে সময় যতই পেরিয়ে যাক, তার অভিনীত চলচ্চিত্র ও গান আজও দর্শকদের হৃদয়ে সমানভাবে জীবন্ত রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


