অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রায় ৬৩ শতাংশ বাংলাদেশিই মানবপাচারকারী চক্রের কাছে বন্দী হয়। আর নির্যাতনের শিকার প্রায় ৮০ ভাগ। এমন তথ্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা- ব্র্যাকের। সিআইডি বলছে, মানবপাচারের সাথে জড়িত ১৫ থেকে ২০টি এজেন্সিকে চিহ্নিত করেছেন তারা। অন্যদিকে, মামলা হলেও অনেক দালালই ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মূলহোতাদের ধরতে না পারাই এই দুর্দশার কারণ।

স্বপ্নযাত্রা নাকি মৃত্যুযাত্রা?
বিদেশের রঙিন স্বপ্ন দেখা অনেক মানুষ সেটা না ভেবেই ছোটেন সমুদ্রপথে। অবৈধভাবে লিবিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হয়ে ইউরোপে যাওয়া এই তালিকার শীর্ষে এখন বাংলাদেশের নাম।
একযুগে এদেশের অন্তত ৭০ হাজার মানুষ সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে গেছে। সবশেষ লিবিয়া থেকে গ্রিসে যেতে গিয়ে মিলেছে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য। সমুদ্রে পথ হারিয়ে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কোনমতে বেঁচে গেছেন ২১ বাংলাদেশি। এভাবে প্রায়ই নৌকাডুবি, অপহরণকারীদের নির্যাতন, গুলিসহ নানা কারণে মারা যান অনেকে। লাখ লাখ টাকা দিয়েও ফেরত আসেন কেউ কেউ। অনেকে প্রতারণায় সব হারিয়ে নিঃস্ব হন।
অভিবাসন বিশ্লেষক শরিফুল হাসান বলেন, বলেন, দেশে যুদ্ধ-দুর্ভিক্ষ না থাকলেও বেশিরভাগ তরুণ কেন দেশ ছাড়াকেই সফলতা মনে করে তার কারণ খোঁজা জরুরী।
এদিকে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সারাদেশে মানব পাচার সংক্রান্ত চার হাজার ৪২৭টি মামলার মধ্যে ৯০৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। সিআইডির হাতে এ মুহূর্তে আছে মানবপাচারের ৩১৬ টি মামলা যার মধ্যে লিবিয়াকেন্দ্রীক ৩১টি। তবে জামিন পেয়ে দেশ ছাড়লে এসব দালালকে আবার ধরা বেশ কঠিন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ব্র্যাকের সমীক্ষা বলছে, এভাবে ইউরোপ যেতে চাওয়া মানুষদের অধিকাংশই ঢাকার আশপাশ, মাদারীপুর ও সিলেট অঞ্চলের ১০-১২ টি জেলার বাসিন্দা। আর তাদের বেশিরভাগই তরুণ। সেখানে ৬০ শতাংশের পরিবারকে স্থানীয় দালালরা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখালেও বাস্তবে ৮৯ শতাংশই কাজ পাননি। ২০২২ থেকে ২৫ সাল পর্যন্ত ৬ হাজার ২৬০ জন দেশে ফিরে আসেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


