ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং এর জেরে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে দেখা দিয়েছে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। দুবাই, আবুধাবি এবং দোহার মতো বিশ্বের প্রধান ট্রানজিট হাবগুলো বন্ধ বা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে পূর্ব-পশ্চিমের যোগাযোগ।

শনিবারের হামলার পর রোববারও ইসরাইল ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আবুধাবি ও কুয়েতের বিমানবন্দরগুলোও আক্রান্ত হয়েছে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম- ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আর ফ্লাইটরাডার ২৪-এর মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে ইরান, ইরাক, কুয়েত, ইসরায়েল, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের আকাশপথ বর্তমানে প্রায় শূন্য। এমনকি ইরানের আকাশপথ আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই অচলাবস্থার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এশিয়া ও ইউরোপের বিমানবন্দরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকা (বাংলাদেশ): ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বহির্গমন বোর্ডে একের পর এক ফ্লাইটের নাম বাতিল হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রবাসী ও ভ্রমণকারীরা।
কাঠমান্ডু ও বালি: নেপালের কাঠমান্ডু এবং ইন্দোনেশিয়ার বালিতেও একই চিত্র। শত শত যাত্রী তাদের ফ্লাইটের খবরের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন।
ভারত: এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লি, মুম্বাই এবং অমৃতসর থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত তাদের সকল ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
দুবাই ও দোহা হলো বৈশ্বিক বিমান চলাচলের ‘ক্রসরোড’ বা মিলনস্থল। ইউরোপ থেকে এশিয়ায় চলাচলে দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটগুলো এই শহরগুলোকে কেন্দ্র করেই তাদের সংযোগ বা কানেক্টিং ফ্লাইট পরিচালনা করে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ জন স্ট্রিকল্যান্ড বলেন, এটি শুধু যাত্রীদের সমস্যা নয়; বিমান এবং ক্রু সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটকা পড়েছেন, যা পুরো শিডিউলকে তছনছ করে দিয়েছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই এয়ারলাইনসগুলো ওই অঞ্চলের আকাশপথ এড়িয়ে চলছিল। এখন ইরান ও ইরাকের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প পথে চলতে গিয়ে ফ্লাইটের সময় অনেক বেড়ে গেছে, যা জ্বালানি খরচকেও আকাশচুম্বী করে তুলেছে।
এর ওপর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান সংঘাত নতুন আতঙ্ক যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এই দুই দেশের আকাশপথও বন্ধ হয়ে যায়, তবে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বিমানের এই ভয়াবহ বিপর্যয় কতদিন স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে পরিস্থিতির কত দ্রুত উন্নতি ঘটে তার ওপর। তবে বর্তমান সামরিক উত্তেজনা যে বিশ্ব পর্যটন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


