জুমবাংলা ডেস্ক : আমদানি শুরুর পর থেকেই কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। কমতির দিকে শাক-সবজির দামও। তবে আবারও বাড়ছে ব্রয়ালার মুরগির দাম। পেঁয়াজের ঝাঁজ কমলেও, দাম চড়া ব্রয়লারের শুক্রবার (৯ জুন) রাজধানীর শ্যামবাজার, কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ও আগানগর কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

পেঁয়াজ ও মুরগি

Advertisement

গত কয়েকমাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকা পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। মূলত ভারত থেকে আমদানি শুরুর পর থেকেই কমছে দাম। সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে পেঁয়াজের দাম। বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা।

বিক্রেতারা বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু হওয়ায় দাম কমছে। আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমবে। মের্সাস নিউ বাণিজ্যালয়ের মালিক শহিদুল বলেন, সরকার পেঁয়াজ আমদানি শুরু করায় কমতে শুরু করেছে দাম। এটা আরও আগে শুরু করা উচিত ছিল। পাশাপাশি আমদানি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ক্রেতারা জানান, দাম কমায় স্বস্তি ফিরেছে পেঁয়াজের বাজারে। তবে দাম আরও কমানো উচিত। সরকার আরও আগে আমদানির সিদ্ধান্ত নিলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না।

বাজারে কমতে শুরু করেছে আদা ও রসুনের দামও। গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি আদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি সপ্তাহে তা নেমে এসেছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়। আর রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে আগের সপ্তাহ থেকে কমছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত।

তবে আবারও বাড়ছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহেও যা ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। এছাড়া সোনালি ২৫০ থেকে ৬০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা।

জিনজিরা বাজারের বিক্রেতা জাবির হোসেন জানান, ব্রয়লারের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমে সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি বেড়েছে খাবারের দাম। পাইকারি পর্যায়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বিধায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আরেক বিক্রেতা হালিম বেপারী বলেন, বেশি দামে বিক্রি করলেও লাভ নাই। দাম বাড়লে ক্রেতা কমে যায়। এতে উল্টো লোকসান হয়।

এদিকে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর এখনও বাড়েনি গরু ও খাসির দাম। এছাড়া বাজারে প্রতি ডজন সাদা ডিম ১৩০ টাকা ও লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

তবে বাজারে মসলার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ঈদের আগে দাম বাড়ার আশঙ্কা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই। ক্রেতারা বলেন, ঈদ উপলক্ষে এখন থেকেই মসলার দাম বাড়াতে শুরু করেছে দোকানিরা। আর বিক্রেতারা জানান, জিরা ছাড়া এখনও বাড়েনি অন্যান্য মসলার দাম। তবে ঈদের আগে দামে কিছুটা প্রভাব পড়বে বলে জানান তারা।

আসগর নামে এক বিক্রেতা বলেন, বাজারে জিরার দাম কিছুটা বাড়তি। বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজিতে। কিছুদিন আগেও যা ছিল ৬০০ টাকা। কোরবানি কেন্দ্র করে দাম একটু বাড়তি। পাইকারিতেই কিনতে হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৭০ টাকায়। ঈদের পর দাম কমতে পারে বলেও জানান তিনি।

স্বস্তির খবর সবজির বাজারে। সবজির দাম কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি ঢেঁড়স ৪০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা ও শষা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া আলু ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা ও ধনেপাতা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জিনজিরা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা নূর মোহাম্মদ জানান, এবার প্রচণ্ড গরম পড়লেও অতিবৃষ্টি না হওয়ায় ফসল তেমন নষ্ট হয়নি। এতে বাজারে সবজির ব্যাপক আমদানি হচ্ছে। ফলে দাম কিছুটা কমতির দিকে।

এদিকে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী মাছের বাজার। বাজারে আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজিতে। এছাড়া প্রতি কেজি রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৩০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ও আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বলিউড নায়িকা মীনা কুমারীর শেষ পরিণতি সিনেমার করুণ কাহিনিকেও হার মানাবে

নিত্যপণ্যের এ অস্থির বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। ক্রেতারা বলছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হয় না। এতে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পায়। আর বিক্রেতারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছে করে দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে নিয়মিত অভিযান চালালে অসাধুদের দৌরাত্ম্য কমবে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.