বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কল্পনাই করা যায় না। পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস কিংবা শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখার অজুহাতে শিশুরাও নিয়মিত মোবাইল ব্যবহার করছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এই প্রযুক্তিই ধীরে ধীরে তাদের জন্য ভয়ংকর আসক্তির কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অনলাইন গেমে অতিরিক্ত সময় কাটানো শিশুদের মানসিক ও সামাজিক জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি ভারতের গাজিয়াবাদে তিন বোনের আত্মহত্যার ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—অনলাইন গেম আসক্তি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। এর আগেও ‘ব্লু হোয়াইল’-এর মতো বিপজ্জনক গেমে জড়িয়ে বহু কিশোর-কিশোরী প্রাণ হারিয়েছে।
অনলাইন গেম আসক্তি আসলে কী?
এটি একটি আচরণগত মানসিক আসক্তি। যেখানে শিশু বা কিশোর ধীরে ধীরে গেমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। পড়াশোনা, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম এমনকি পরিবারের সঙ্গেও সময় কাটানো তার কাছে গুরুত্ব হারায়। অনেক গেম এমনভাবে তৈরি করা হয়, যা ধাপে ধাপে খেলোয়াড়কে আরও গভীরে টেনে নেয় এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
সন্তানের মধ্যে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে
অভিভাবকদের জন্য সময়মতো এসব লক্ষণ চিহ্নিত করা খুবই জরুরি—
-মোবাইল বা কম্পিউটার না পেলে অস্বাভাবিক অস্থিরতা
-রাত জেগে গেম খেলা ও দিনে ঘুমিয়ে থাকা
-পড়াশোনায় আগ্রহ ও মনোযোগ কমে যাওয়া
-পরিবার ও বন্ধুদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া
-সহজেই রেগে যাওয়া বা মিথ্যা বলার প্রবণতা
-নিজের ঘরে দীর্ঘ সময় একা থাকা
-হতাশাজনক কথা বলা বা আত্মহানির ইঙ্গিত দেওয়া
-অভিভাবকরা কীভাবে সন্তানের পাশে দাঁড়াবেন
রাগ নয়, সহানুভূতি দেখান
প্রথমেই বুঝতে চেষ্টা করুন—সন্তান কেন গেমে এতটা আসক্ত হয়ে পড়েছে।
বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ গড়ে তুলুন
শাসন নয়, বিশ্বাস তৈরি করুন। খোলামেলা আলোচনায় সন্তানের অনুভূতি জানুন।
হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা দেবেন না
একদিনে সব বন্ধ করলে উল্টো প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ধাপে ধাপে গেমের সময় কমান।
বিকল্প কাজে আগ্রহ তৈরি করুন
খেলাধুলা, গান, আঁকা, বই পড়া কিংবা পারিবারিক সময় কাটানোর সুযোগ দিন।
স্ক্রিন টাইমের নিয়ম করুন
পরিবারের সবাই একই নিয়ম মানলে শিশু উৎসাহ পায়।
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করুন
বয়সভিত্তিক কনটেন্ট ফিল্টার ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করুন।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন
যদি আত্মহানির ইঙ্গিত বা চরম আচরণ দেখা যায়, দেরি না করে কাউন্সেলর বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।
স্কুল ও সমাজের দায়িত্বও কম নয়
শুধু পরিবার নয়, এই সংকট মোকাবিলায় স্কুল ও সমাজকেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে—
-স্কুলে ডিজিটাল সচেতনতা বিষয়ক ক্লাস চালু করা
-শিক্ষকদের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা
-শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিং সুবিধা নিশ্চিত করা
-গণমাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার
-খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিশুদের সম্পৃক্ত করা
অনলাইন গেম আসক্তি রোধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা একমাত্র সমাধান নয়। প্রয়োজন বোঝাপড়া, সময়োপযোগী নির্দেশনা, বিকল্প ব্যস্ততা এবং পরিবার–স্কুল–সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ। সচেতন থাকলে এবং সময়মতো পদক্ষেপ নিলে সন্তানকে এই নীরব বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


