এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরের মধ্যে দেশে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্ত তৈরি হয়েছে, তা বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করেছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক গণবিদ্রোহ।”

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে খুনি হাসিনা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে গুম, হত্যা, বিনাবিচারে কারাবন্দি, হামলা ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে জনগণকে ভয়ভীত করেছিল। এতে ছাত্রলীগ, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ সরকারি সব সংস্থা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এসব প্রভাব অনেকাংশে ভেঙে পড়েছে। কিছু নেতৃস্থানীয় খুনি পালিয়েছে, কিছু বিচারের আওতায় এসেছে, আর অনেককে ধরে আনার চেষ্টা চলছে। জুডিশিয়ারি, সিভিল সার্ভিস ও পুলিশ বিভাগে শীর্ষ নেতৃত্বের কিছু অংশ বদলানো হলেও ডিফেন্স সার্ভিস এখনও অটুট রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “খুনি ও অপরাধীরা সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছে, নিরাপদে দেশান্তরিত হয়েছে, কিছু জেনারেল কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। কিছু অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে জব্দের চেষ্টা সশস্ত্র বাহিনীর অমর্যাদা তৈরি করেছে।”
তিনি বলেন, খুনি হাসিনাকে উৎখাত করার পর সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নামানো হয়েছে, কিন্তু সুপিরিয়র কমান্ডের অনাগ্রহের কারণে কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হলেও অপরাধী শনাক্তকরণ, অস্ত্র উদ্ধার বা গ্রেপ্তারের উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, গুমবিষয়ক কমিশন ১,৮৫০টির বেশি অভিযোগের ভিত্তিতে কাজ করেছে, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদী দোসররা তথ্য ও আলামত নষ্ট করে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি শেষ করেন, “আমাদের লড়াই হবে সেই নিপীড়ন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমূলে উৎপাটন করা, যা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সব প্রবণতার উৎস। আমরা চাই সমাজ থেকে এই সকল অন্যায় ও বৈষম্য সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হোক।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


