ওয়েটিং রুম অ্যাংজাইটি এমন এক মানসিক অস্বস্তি, যা কোনো জায়গায় বসে কোনো বিষয় বা ফলাফলের জন্য অপেক্ষার সময় হঠাৎ করে অনুভূত হয়। এটি সাধারণত দেখা যায় চিকিৎসকের চেম্বার, পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা, ইন্টারভিউ, খেলা বা গাড়ি সার্ভিস সেন্টার-এ। এমন পরিস্থিতিতে বুক ধড়ফড় করা, অস্থিরতা বা অজানা ভয় অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক।

শুধু মানসিকভাবেই নয়, এটি শরীরেও প্রভাব ফেলে। হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘাম হওয়া, পেশিতে টান ধরা বা মাথা হালকা লাগার মতো অনুভূতি ওয়েটিং রুম অ্যাংজাইটির পরিচায়ক।
কেন আসে এই অস্বস্তি?
প্রধান কারণ হলো অনিশ্চয়তা। কী ঘটবে, ফলাফল কী হবে বা কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে—এসব অজানা থাকলে মস্তিষ্ক বিপদের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করে। ফলস্বরূপ, শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে যায় এবং উদ্বেগ তৈরি হয়।
উদ্বেগ কমানোর কার্যকর উপায়
বিশ্বস্ত কাউকে সঙ্গে রাখা
পরিচিত ও প্রিয় কারও উপস্থিতি নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। কথা বলা, পাশে বসা বা একটু বাইরে বের হয়ে শ্বাস নেওয়াও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
মনকে অন্য দিকে সরানো
বই পড়া, পত্রিকা দেখা, আঁকা বা চুইংগাম চিবানো মতো কাজ মনকে অপেক্ষার অস্বস্তি থেকে সরিয়ে দেয়। গান শোনা বা হেডফোন ব্যবহার করাও মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর।
গভীর শ্বাস নেওয়া
চোখ বন্ধ করে নিরাপদ কোনো স্থানের কল্পনা করা বা ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস উদ্বেগের মাত্রা অনেকটা কমিয়ে দেয়।
প্রকৃতি বা শান্ত দৃশ্য দেখা
সবুজ প্রকৃতির দৃশ্য বা শান্ত পরিবেশ দেখলে মানুষের স্নায়ু ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। মোবাইলে গাছ, নদী, পাহাড় বা প্রাণীর ছবি দেখা এই ক্ষেত্রে সহায়ক।
ওয়েটিং রুম অ্যাংজাইটি স্বাভাবিক হলেও, উপরের কৌশলগুলো অনুসরণ করলে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব এবং অপেক্ষার সময় স্বস্তি পাওয়া যায়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


