মিষ্টি ছাড়া যেন দিনই চলে না—চা, কফি, ডেজার্ট, চকোলেট কিংবা প্যাকেটজাত খাবার—সবখানেই কোনো না কোনোভাবে চিনি আছে। স্বাদে তৃপ্তি দিলেও অতিরিক্ত চিনি যে শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তা আমরা জানি। কিন্তু সমস্যাটা তৈরি হয় তখন, যখন অজান্তেই প্রতিদিন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চিনি খেয়ে ফেলি। শরীর তখন নীরবে কিছু সতর্ক সংকেত দেয়, যা আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দিই না।

মার্কিন স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট এভরিডে হেলথ-এ প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের কিছু লক্ষণ সহজেই ধরা যায়—যদি আমরা সচেতন হই।
১. দীর্ঘস্থায়ী রোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি
অতিরিক্ত চিনি ধীরে ধীরে আর্থ্রাইটিস, চোখে ছানি, হৃদ্রোগ, স্মৃতিভ্রংশ এমনকি ত্বকের আগাম বার্ধক্যের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২. খাওয়ার পরও দ্রুত ক্ষুধা পাওয়া
চিনি দ্রুত ভেঙে যায়, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগে। পাশাপাশি এটি মস্তিষ্কে ডোপামিন বাড়ায়, যা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে শরীর আরও বেশি চিনি চাইতে থাকে।
৩. শক্তির ওঠানামা ও ক্লান্তি
গ্লুকোজ শক্তি জোগালেও অতিরিক্ত চিনি ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এতে হঠাৎ শক্তি বাড়ে, আবার দ্রুত কমেও যায়। ফলাফল—অকারণ ক্লান্তি ও আবার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা।
৪. ত্বকে সমস্যা ও প্রদাহ
বেশি চিনি শরীরে গ্লাইকেশন প্রক্রিয়া বাড়ায়, যা ত্বকের কোলাজেন ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে ব্রণ, প্রদাহ ও ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. ওজন বৃদ্ধি
চিনিযুক্ত খাবারে ক্যালরি বেশি থাকে। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে তা সহজেই ওজন বাড়ায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিনি কমানো জরুরি।
৬. দাঁতের ক্ষয়
মিষ্টি বেশি খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ে।
৭. প্রাকৃতিক মিষ্টির স্বাদ কম অনুভূত হওয়া
অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে জিহ্বা উচ্চমাত্রার মিষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তখন ফলের মতো প্রাকৃতিক মিষ্টিও কম মিষ্টি মনে হয়।
৮. ঘন ঘন সর্দি–কাশি
চিনি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে। ফলে সহজেই ঠান্ডা, কাশি বা ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
৯. গ্যাস ও হজমের সমস্যা
অতিরিক্ত চিনি অন্ত্রে গ্যাস তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম বাড়ায়। এতে পেট ফাঁপা ও বদহজম হতে পারে।
চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবসময় প্রয়োজন না হলেও পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। শরীর যখন ছোট ছোট সংকেত দেয়, তখন তা গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিত। আজ থেকেই যদি সচেতনভাবে চিনি কমানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতের বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। মনে রাখবেন, মিষ্টির স্বাদ ক্ষণস্থায়ী—কিন্তু সুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


